রাধানগরে ৩৬ ঘণ্টার লড়াই, পিছু হটে পাকিস্তানি বাহিনী

সিলেট-তামাবিল সড়কটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ভৌগোলিক কারণে। এটি তামাবিলের পাশে ভারতের ডাউকি-শিলং সড়কের একটি অংশ। এই সড়ক দিয়ে সিলেট থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ভৈরব, এবং ঢাকা পর্যন্ত যেতে পারা যায়। মুক্তিযুদ্ধের সময়ে এই সড়কটি পাকিস্তানি বাহিনীর দখলের পরিকল্পনা ছিল। রাধানগর গ্রামে তাদের ক্যাম্প ছিল এবং ক্ষেত্রে আছিল এক হাজারের বেশি পাকিস্তানি সেনা। মুক্তিযোদ্ধারা এই ক্যাম্প নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পর বাহিনীকে পরাজিত করে। প্রখ্যাত লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) এস আই এম নূরুন্নবী খানের ‘অপারেশন রাধানগর’ বইয়ে এই ঘটনার বিবরণ প্রকাশিত আছে। এতে বর্ণিত আক্রমণে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রচুর উৎসাহ ও দৃঢ় ইচ্ছাশক্তি দেখা যায়। এরই উৎসে তারা দেশকে শত্রুমুক্ত করার লক্ষ্যে যুদ্ধ করে অনেক অঞ্চল মুক্ত করেন। দুর্বিষহ অবস্থা থেকে মানুষকে মুক্ত করার জন্য মুক্তিযোদ্ধারা সত্যিই প্রাণপ্রিয় প্রচেষ্টা করেছিল। এই ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধা ও ভারতীয় সেনার সাথে একসাথে লড়াই করে প্রচুর শহীদ দেন। এই পরাজয়ের পর মুক্তিযোদ্ধারা আরও প্রবল উৎসাহ দেখানোর জন্য ২৮ নভেম্বরে আবার আক্রমণ চালিয়ে পাকিস্তানি বাহিনীর বিপরীতে। এই উচ্চমান লড়াইতে বীর মুক্তিযোদ্ধা সিপাহি নুরুল হক (বীর উত্তম) মৃত হন।

ঐতিহ্য থেকে প্রকাশিত গবেষক হাসান মোরশেদ ঈশানে নিশান পাওয়া যাচ্ছে: মুক্তিযুদ্ধের মৌলিক উপাখ্যান বইতে সে যুদ্ধের বিষয়ে আলোচনা করেছেন। তাঁর প্রকাশিত গবেষণা দেখা গেছে, যুদ্ধের সময় তিনি নিজেদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করেছিলেন। মুক্তিযোদ্ধারা বলেছিলেন, তারা বিনা ভারতীয় সেনাবাহিনীর সাহায্যে পাকিস্তানি সেনাদের মনোবল ভেঙ্গে দিয়েছিলেন ৩৬ ঘণ্টা মুক্তিযুদ্ধ চালানোর পর। ২৯ নভেম্বর সন্ধ্যার পর তৃতীয় বেঙ্গল রেজিমেন্টের মুক্তিযোদ্ধারা রাধানগরে দখল নিয়েছিলেন। এই খবরটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছিল আশপাশে। কমান্ডাররা এলাকায় অবস্থান করে পাকিস্তানি সেনাদের অবস্থান লক্ষ্য করে আক্রমণ চালানোর পরিকল্পনা করেছিলেন। রাত ১০টার দিকে পাকিস্তানি বাহিনী মরিয়া আক্রমণ চালাতে না পেরে পিছু হটে। তারা রাত ১২টার দিকে গোয়াইনঘাট উপজেলা সদরের দিকে চলে যায়। এই পরাজয়ে উদ্দীপন পেয়েছে মুক্তিযুদ্ধ এবং তা প্রভাবকের মতো ভাবা উচিত মনে হয় হাসান মোরশেদের। তার মতানুযায়ী, পাকিস্তানি বাহিনীকে পরাজিত করা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ অংশ খেলেছে। এটি দেশের মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য একটি উদাহরণ হিসেবে প্রেরণা দিতে সক্ষম হয়েছে। দেশের মুক্তিযোদ্ধারা প্রতিটি অঞ্চলে যুদ্ধ চালানোর পরে তারা মুক্তি দিয়েছেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top