রমজানে বগুড়ায় অস্থির নিত্যপণ্যের বাজার

বাজার সিন্ডিকেট বা ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের কারণে বগুড়ায় অস্থির নিত্যপণ্যের বাজার। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকার এই সিন্ডিকেট ভাঙতে না পারলে কোনোভাবেই কমবে না পণ্যের দাম। প্রতিবছরই পবিত্র রমজানকে পুঁজি করে একটি অসাধু চক্র পণ্য মজুদ করে। ফলে বাজারে নিত্যপণ্যের ঘাটতি থাকায় দাম বাড়তে থাকে লাফিয়ে লাফিয়ে। এছাড়া ইচ্ছামত দাম বাড়িয়ে পকেট কাটা হচ্ছে ভোক্তাদের। এসব ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর হস্তক্ষেপেদের দাবি জানিয়েছেন তারা।

এদিকে, জেলা প্রশাসন বলছে, স্ব-উদ্যোগে প্রতিদিন একাধিক জায়গায় ভ্রাম্যমাণ আদালত বসানো হচ্ছে। জেলা ও জরিমানা করা হচ্ছে। নিত্যপণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখতে নিয়মিত মনিটরিং জোরদার করা হয়েছে।

ক্রেতারা বলছেন, ধার-দেনা ও ঋণের বোঝা নিয়ে চলছে তাদের সংসার। দোকানীরা বলছেন, রমজানের শুরুতে প্রয়োজনের চেয়ে অনেক ভোক্তা একসঙ্গে বেশি পণ্য কিনছেন। ফলে কিছু পণ্যের অতিরিক্ত চাহিদার কারণে দাম বেড়েছে।

জানা যায়, পবিত্র রমজান মাসে অসাধু সিন্ডিকেটের কারসাজিতে নিত্যপণ্যের বাজারদর অস্বাভাবিকভাবে ঊর্ধ্বমুখী। যা সাধারণ ক্রেতাদের দুর্ভোগ চরম পর্যায়ে নিয়ে গেছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম লাগামহীনভাবে বাড়ায় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। বাজারের এই অস্থিরতা তাদের জীবনযাত্রাকে আরও কঠিন করে তুলেছে। অতিরিক্ত মুনাফার লোভে এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট করে পণ্যের দাম বাড়াচ্ছে। যার ফলে সাধারণ মানুষের কষ্ট বাড়ছে। সপ্তাহের ব্যবধানে বগুড়ার বাজারগুলোতে বেগুন, শসা, লেবু, কাঁচামরিচ, ছোলা, পেঁয়াজ, ভোজ্যতেল, খেজুর, ডাল ও বেসনসহ অধিকাংশ পণ্যের দাম চড়া। তবে আলু আগের দামেই বিক্রি করতে দেখা গেছে।

ভোক্তারা বলছেন, প্রতি বছরই রমজানকে কেন্দ্র করে নিত্যপণ্যের বাজারে অস্থিরতা দেখা দেয়। এবারও এর ব্যতিক্রম ঘটেনি। বিশেষ করে অস্বাভাবিক দাম বেড়েছে বেগুন, লেবু ও কলার। দাম বাড়ার তালিকায় রয়েছে শসাসহ আরও কয়েকটি পণ্য।

ক্রেতাদের অভিযোগ, নির্বাচনের কারণে যথাযথ বাজার তদারকি না থাকায় এ অবস্থা তৈরি হয়েছে। নতুন সরকার দ্রুত বাজার নিয়ন্ত্রণে কঠোর না হলে পরিস্থিতি আয়ত্তের বাইরে চলে যেতে পারে। বিক্রেতাদের দাবি, চাহিদা অনুযায়ী কিছু পণ্যের সরবরাহে টান আছে। যার প্রভাব পড়েছে দামে।

শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সকালে বগুড়ার রাজাবাজার, ফতেহ আলী, কলোনী, খান্দার, গোদারপাড়া ও বকশিবাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতি কেজি শসা বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকায়, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ৫০ থেকে ৬০ টাকা। এছাড়া কেজিতে ৪০ থেকে ৫০ টাকা বেড়ে বেগুন বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকায়। কাঁচা মরিচের দাম বেড়ে প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৪০ থেকে ১৬০ টাকায়। দেশী পেঁয়াজ প্রতি কেজি ৬০ টাকা, আলু ২০ টাকা, দেশি আদা ১৬০ টাকা, দেশি রসুন ১২০ টাকা, চায়না রসুন ২০০ টাকা, শুকনো মরিচ ৩০০ টাকা, গাজর ৪০ টাকা, করলা ১৬০ টাকা, সিম ও ঢেঁড়স ৪০ টাকা, ফুলকপি ৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া রমজান মাসকে কেন্দ্র করে বাজারগুলোতে লেবুর দামে চরম অস্থিরতা দেখা গেছে। গত সপ্তাহের চেয়ে বাজারে লেবুর সরবরাহ বাড়লেও দর কমেনি। প্রতি হালি লেবু বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা। যা আগে ছিল প্রতি হালি ২০ টাকা।

এছাড়া সোনালি মুরগির দাম বেড়ে প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ২৮০ টাকা, ব্রয়লার মুরগি ১৮০ টাকা ও লেয়ার ৩০০ থেকে ৩২০ টাকা। দেশি মুরগি ৪৫০ থেকে ৫৫০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। এদিকে বাজারে আকারভেদে প্রতি কেজি ইলিশ মাছ ৬০০ টাকা থেকে শুরু করে দুই হাজার টাকা কেজি পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। দুই কেজি ওজনের রুই বিক্রি হচ্ছে ৪৫০ টাকা, দুই থেকে আড়ার কেজি ওজনের কাতল মাছ ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা, বড় ব্রিগেড মাছ ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা যায়। এছাড়া ছোট দেশীয় মাছ ৪০০ টাকা থেকে ৮০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।

বগুড়া ফতেহ আলী বাজারের ভাই ভাই সবজি ভাণ্ডারের স্বত্বাধিকারী মো. খোকন মিয়া জানান, পবিত্র রমজান উপলক্ষে বাজারে কিছু কিছু সবজির খাটতি রয়েছে। এছাড়া চাহিদা বেশি থাকার কারণে সবজির দামও বেশি। 

তিনি বলেন, রমজানের শুরুতে প্রয়োজনের চেয়ে অনেক ভোক্তা একসঙ্গে বেশি পণ্য কিনছেন। ফলে কিছু পণ্যের অতিরিক্ত চাহিদার কারণে দাম বেড়েছে।

বাজারে সবজি কিনতে আসা আমিনুল হক আরজু জানান, বাজারে বেগুনের কেজি ১০০ টাকা। প্রতিবছরই রোজার আগে এভাবে ব্যবসায়ীরা সবকিছুর দাম বাড়িয়ে দেন। যে কারণে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষের কষ্ট পোহাতে হয়। সংসার চলছে ধার-দেনা করে।

বগুড়া জেলা প্রশাসক মো. তৌফিকুর রহমান জানান, জেলা প্রশাসনের স্ব-উদ্যোগে প্রতিদিন একাধিক জায়গায় ভ্রাম্যমাণ আদালত বসানো হচ্ছে। জেলা ও জরিমানা করা হচ্ছে। ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের সাথে জড়িতদেরকে খুঁজে বের করা হচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ চলমান রয়েছে। এরপরও যদি মনে কোথাও কোন অসাধু চক্র রমজানকে পুঁজি করে নিত্যপণ্যের দাম বাড়ানোর চেষ্টা করে তাহলে তাদেরকে কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না। এসব অসাধু চক্রের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ কঠোর ও আরও জোরদার করা হবে। 

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top