প্রকাশ: ১০ মার্চ ২০২৬
ডিজেল সরবরাহের কম হওয়ার প্রভাবে আমদানি পণ্য পরিবহনে নিয়োজিত লাইটার জাহাজের চলাচলে প্রভাব পড়েছে। এবং রপ্তানি পণ্যের ব্যবস্থাপনায় নিয়োজিত বেসরকারি ডিপোতেও এই প্রভাবে প্রভাবিত হওয়ার সম্ভাবনা উঠছে বলে ডিপো পরিচালনাকারীরা জানিয়েছেন।
চট্টগ্রাম বন্দরের বাহিরের উদ্দেশ্যে বড় জাহাজ থেকে খাদ্য, শিল্পের চায়নামাল এবং বিভিন্ন পণ্য নিয়ে লাইটার জাহাজে লোড করা হয়। এরপরে, দেশের বিভিন্ন ঘাটে যেতে এই পণ্যগুলি উত্লাভ করা হয়, যেখানে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ সহ। এই কাজের জন্য, এখন প্রায় ১৫০টি লাইটার জাহাজ রয়েছে। ডিজেল-সংকটে নদী পথে পণ্য পরিবহনের সমস্যা শুরু হয়েছে।
লাইটার জাহাজ চলাচল ব্যবস্থাপনাকারী সংস্থা বাংলাদেশ ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট কো-অর্ডিনেশন সেলের (বিডব্লিউটিসিসি) আহ্বায়ক সফিক আহমেদ গতকাল বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিবকে চিঠি দিয়ে জানান, জ্বালানি-সংকটের কারণে অনেক লাইটার জাহাজ কর্ণফুলীতে পণ্য নিয়ে ভাসছে, গন্তব্যে যেতে পারছে না। বন্দর থেকে নদীপথে পণ্য সরবরাহ ঠিক রাখতে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহের অনুরোধ জানানো হয় চিঠিতে.
প্রতিদিন পণ্য পরিবহনের জন্য গড়ে ৭০-৮০টির মতো জাহাজ বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রতিটি জাহাজের জন্য চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় যাওয়ার সময় তিন হাজার লিটার ডিজেল প্রয়োজন। কিন্তু কিছু মানুষ এই সরবরাহ পেতে না পেলেও গন্তব্যে যাওয়ার উপযোগী নয়।
যদি আপনি জানতে চান তবে বিডব্লিউটিসির মুখপাত্র পারভেজ আহমেদ গতকাল সোমবার প্রথম আলোকে বলেন, ‘গত বৃহস্পতিবার থেকে লাইটার জাহাজে ডিজেল সরবরাহ নিয়ে সংকট শুরু হয়। প্রতিদিন পণ্য পরিবহনের জন্য গড়ে ৭০-৮০টির মতো জাহাজ বরাদ্দ দেওয়া হয়। একেকটি জাহাজ চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় যাওয়ার জন্য তিন হাজার লিটার ডিজেল দরকার। তবে অনেকে সরবরাহ না পেয়ে গন্তব্যে যেতে পারছে না।’
একই অবস্থা প্রাইভেট কনটেইনার ডিপোগুলোতে। চট্টগ্রামের ২১টি ডিপোতে আগামী পণ্য ব্যবস্থাপনা করা হয়। এরপর কনটেইনারে ভরে বন্দর থেকে জাহাজে পাঠানো হয়। পুনরায় কনটেইনারে আমদানি পণ্যও বন্দর থেকে এনে ডিপো থেকে মুক্তি দেওয়া হয়। এই কাজের জন্য এক হাজার কনটেইনার পরিবহনকারী গাড়ি এবং ২৫০ যন্ত্রপাতি রয়েছে, যেগুলির জন্য ডিজেল প্রয়োজন। গত সপ্তাহে পাঁচটি ডিপো ডিজেল পেয়েনি।
এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপো অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি খলিলুর রহমান বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের চেয়ারম্যানকে চিঠি দিয়ে নিরবচ্ছিন্ন ডিজেল সরবরাহের কথা জানান। চিঠিতে বলা হয়, ডিপোগুলোর কার্যক্রম পরিচালনার জন্য দিনে ৬০ থেকে ৬৫ হাজার লিটার ডিজেল প্রয়োজন। তবে সম্প্রতি পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা অয়েল লিমিটেড এই তিনটি কোম্পানি ডিপোগুলোকে চাহিদা অনুযায়ী ডিজেল সরবরাহে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। এতে ডিপোগুলো জ্বালানি–সংকটে পড়বে।
যদি আপনি জানতে চান তাহলে পদ্মা অয়েলের পরিচালক মো. মহফিজুর রহমান গতকাল রাতে প্রথম আলোকে বলেন, যে তেল সরবরাহ চলছে। তবে সরকার বলেছে, ২৫ শতাংশ কমানো হবে। এ কারণে কম পরিমাণে দেওয়া হচ্ছে। তবে কোনও সময়ে তেল সরবরাহ বন্ধ করা হয়নি। গতকাল ডিজেল নিয়ে একটি জাহাজ দেশে এসেছে। এ সপ্তাহেই আরও কয়েকটি জাহাজ দেশে আসার কথা রয়েছে। ফলে তেল সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক ভাবে হয়ে যাবে।




