প্রকাশ: ১০ মার্চ ২০২৬
আমেরিকার সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) মনে করছে, ইরান যুদ্ধের প্রথম ১০ দিনে ৫ হাজারের বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানোর আক্ষেপ করেছে। মার্কিন সামরিক কমান্ড বিশ্বাস করে, এই লক্ষ্যবস্তুগুলির মধ্যে ইরানের ৫০টির বেশি নৌযান রয়েছে। তাদের তথ্যবিবরণী অনুসারে, ইরানের নৌযান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কেন্দ্র, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন তৈরির কারখানা এবং সামরিক যোগাযোগ অবকাঠামো সহ অন্তর্ভুক্ত ছিল।
ইরানের মধ্যাঞ্চলীয় শহর খোমেইনের একটি স্কুলে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্রের আক্রমণের পরিণামে আঘাত হেনেছে বলে জানিয়েছে দেশটির সংবাদ সংস্থা মেহের নিউজ। এই হামলায় হাফেজ খোমেইনি স্কুল এবং আশপাশের কিছু বাড়ির ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রের আক্রমণে স্কুলটির সংলগ্ন আবাসিক এলাকা ভেঙে পড়েছে। আগে ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর মিনাবের একটি বালিকা বিদ্যালয়ে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ১৭০ শিশু শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার খবর প্রকাশিত হয়। ওই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের পর খোমেইনে নতুন হামলার এ ঘটনা ঘটেছে।
যুক্তরাষ্ট্র নয়, ইরান এ ‘যুদ্ধের সমাপ্তি নির্ধারণ’ করবে: আইআরজিসিযুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা অব্যাহত থাকলে মধ্যপ্রাচ্য এলাকা থেকে তেল রপ্তানি বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়ে ইরানের ইসলামিক রেভলুশনারি গার্ডস কোর (আইআরজিসি) বলেছে, ইরানই যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সঙ্গে চলা ‘যুদ্ধের সমাপ্তি নির্ধারণ’ করবে। এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরান যুদ্ধ ‘শিগগিরই’ শেষ হবে বলে মন্তব্য করেছিলেন। জবাবে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে প্রচারিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি ওই মন্তব্য করেছে। রেভলুশনারি গার্ডস কোরের বিবৃতিতে বলা হয়, ‘(মধ্যপ্রাচ্য) এলাকার সমীকরণ ও ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি এখন আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর হাতে; মার্কিন বাহিনী এ যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটাতে পারবে না।’ এদিকে মধ্যপ্রাচ্য থেকে ১ লিটার তেলও রপ্তানি করতে না দেওয়ার ব্যাপারে বিপ্লবী গার্ডসের হুমকির পরিপ্রেক্ষিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন.
ট্রাম্প বলেছেন, যদি ইরান হরমুজ প্রণালি ব্যবহার করে তেল সরবরাহ বন্ধ করে দেয়, তবে দেশটিকে আগের চেয়ে অনেক গুণ শক্তিশালী হামলার মুখে পড়তে হবে। চলমান যুদ্ধের কারণে ওই নৌপথে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল ইতিমধ্যে চরমভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। একইভাবে কোনো ধরণের প্রভাবশালী হামলার সম্মুখীন হওয়ার কথা উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেছেন, এর ফলে ইরানের উপর কঠোর হামলা হতে পারে যদি তারা হরমুজ প্রণালিতে তেল সরবরাহ বন্ধ করে। সে সাথে আরও যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরানের উপর হামলার মাত্রা বাড়তে পারে। ট্রাম্প আরও যুক্ত করেছেন, এমন ক্ষেত্রে ইরানের ঠিক করা লক্ষ্যবস্তু ধ্বংসযোগ্য হতে পারে এবং তার জন্য মৃত্যু, আগুন এবং ধ্বংসযজ্ঞের মুখোমুখি হতে হতে পারে। তবে সে আশা করছেন এমন ঘটনা ঘটবে না!
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজকে বলেছেন, তাঁর প্রশাসন কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিটি নিজেদের দখলে নেওয়ার ‘চিন্তাভাবনা’ করছে।বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হিসেবে পরিচিত এ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয়।তবে ১০ দিন আগে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এ নৌপথে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।সিবিএস নিউজকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, হরমুজ প্রণালিটি বর্তমানে উন্মুক্ত রয়েছে, তবে হোয়াইট হাউস এটি ‘দখলে নেওয়ার কথা ভাবছে’ এবং সেখানে তারা ‘অনেক কিছুই’ করতে পারে।ইরান এখন পর্যন্ত প্রণালিটি বন্ধ করে দেয়নি। তবে দেশটি হুমকি দিয়ে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের কোনো তেলের ট্যাংকার এই পথ দিয়ে চলাচলের চেষ্টা করলে সেটিতে তারা হামলা চালাবে।
যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের সাথে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রথমবার রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সাথে ফোনে কথা বলেছিলেন। গতকাল রাতে অনুষ্ঠিত ফোন কলে ইরান যুদ্ধ দ্রুত শেষ করতে পুতিন তার নিজের প্রস্তাবগুলি উঠিয়ে আনেন এবং ক্রেমলিনের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ে উপদেষ্টা ইউরি উশাকভের মূল্যবান মতামত গ্রহণ করেন। এই বছরের মধ্যে মার্কিন এবং রাশিয়ান প্রেসিডেন্টের মধ্যে এই এক ঘন্টা দীর্ঘ ফোন কলে উশাকভে বলেন, “আমি শুরুতেই বলব যে আলোচনাটি পেশাদার, খোলামেলা এবং গঠনমূলক ছিল; এটি সাধারণত রাশিয়ান এবং মার্কিন নেতাদের সংলাপে দেখা যায়।”
যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের উপর হামলা হলে মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চল হতে এক লিটার তেল রপ্তানি করার প্রতিষ্ঠান ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস কোর (আইআরজিসি) হুমকি দিয়েছে। এই হুমকির পরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চেতাবানি দিয়ে বলেছেন, ইরান যদি গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি ব্যবহার করে তেল সরবরাহ বন্ধ করে তাহলে দেশটি বেশি শক্তিশালী হামলা মুখে দেওয়ার মুখোমুখি হতে পারে। চলমান যুদ্ধের কারণে ওই অঞ্চলে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন হচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট আগে জবাব দেন যুদ্ধ শিগগির শেষ হবে বলেছিলেন। ইরানের আইআরজিসি একটি বিবৃতিতে ঘোষণা করেছে, তারা যুদ্ধের শেষ নির্ধারণ করবে।



