কালীগঙ্গা নদীর ওপর একটি সেতুর অভাবে চরম ভোগান্তিতে দিন পার করেছেন মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার পুটাইল ইউনিয়নের হিজলাইন এলাকার বাসিন্দারা।
স্থানীয়রা সরকারি দপ্তরে বারবার আবেদন জানিয়েও ফল পাননি। শেষ পর্যন্ত নিজেরা বাঁশ ও কাঠ দিয়ে একটি নড়বড়ে সাঁকো নির্মাণ করেছেন। সেই সাঁকো দিয়েই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন শিক্ষার্থী, কৃষক ও সাধারণ মানুষ।
স্থানীয়রা জানান, কালীগঙ্গা নদীর ওপর একটি স্থায়ী সেতুর দাবি বহু দিনের। কিন্তু এখনো বাস্তবায়নের উদ্যোগ দেখা যায়নি। ফলে কয়েক হাজার মানুষ প্রতিদিন বাধ্য হয়ে অস্থায়ী সাঁকো ব্যবহার করছেন। সামান্য বৃষ্টি বা পানির স্রোত বাড়লেই সাঁকোটি আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে।
এ পথ দিয়ে মানিকগঞ্জ সদর ও পৌরসভার কয়েক হাজার মানুষ নিয়মিত চলাচল করেন। কৃষকেরা কৃষিপণ্য নিয়ে হাট-বাজারে যেতে ভোগান্তিতে পড়েন। অনেক সময় কম দামে ফসল বিক্রি করে দিতে বাধ্য হন। শিক্ষার্থীরাও ভয়ে ভয়ে সাঁকো পার হয়ে বিদ্যালয়ে যায়।
নদীর উত্তর পাড়ের বাসিন্দা নিজাম মিয়া বলেন, ‘আমার নাতনি ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ে। প্রতিদিন ওকে বাঁশের সাঁকো পার করে দিই। বাড়ি না ফেরা পর্যন্ত দুশ্চিন্তায় থাকি। একটু দেরি হলেই নদীর পাড়ে গিয়ে খোঁজ নিই। এভাবে আর কতদিন চলবে জানি না।’
স্থানীয়দের অভিযোগ, সেতু না থাকায় জেলা শহরে যেতে প্রায় ১৫ কিলোমিটার ঘুরপথ ব্যবহার করতে হয়। এতে সময় ও খরচ দুটোই বাড়ছে। দুর্ঘটনার আশঙ্কায় অনেকে নিয়মিত বিদ্যালয়ে যেতে পারে না বলেও জানান এলাকাবাসী।
মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। সরেজমিনে পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




