আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায়

জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচারে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি

প্রকাশ: ১২ এপ্রিল ২০২৬

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (আইসিটি) জুলাই অভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায় জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচারের ক্ষেত্রে তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা বলে আমরা মনে করি। ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই গুলি করে হত্যা করা হয় রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা আবু সাঈদকে। ছাত্রদের কোটা সংস্কার আন্দোলনকে গণ-অভ্যুত্থানে রূপান্তর এবং শেখ হাসিনার স্বৈরতান্ত্রিক শাসন অবসানের ক্ষেত্রে তাঁর নিহত হওয়ার ঘটনাটি ছিল একটি বাঁকবদলবিন্দু। পুলিশের বুলেটের সামনে দুহাত প্রসারিত করে দাঁড়ানো আবু সাঈদের ছবি ও ভিডিও জুলাই অভ্যুত্থানের প্রতীক হয়ে উঠেছিল।

আবু সাঈদ হত্যা মামলার সূচনা প্রসঙ্গ হতে রায় ঘোষণা দেওয়া হবে এই প্রসঙ্গ থেকে মোট ২৬৬ দিন সময় লাগল। বৃহস্পতিবারে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ ঘোষিত রায়ে পুলিশের সাবেক দুই সদস্যের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। পুলিশের সাবেক আরও তিনজন আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডসহ মোট ২৮ জন আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে। এখানে রংপুরের সাবেক পুলিশ কমিশনার এবং রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য সহ কর্মকর্তা-কর্মচারী, নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরাও রয়েছেন।

22 শে অক্টোবরের ঘটনার শেষে, নির্বাচনের প্রস্তাব হত্যা, নির্যাতন, এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিস্তৃত ঘটনা সামনে আসে, যা ন্যায্যতার সঙ্গে নির্ধারণ করা জনগণের মুখোমুখি প্রয়োজন। আবু সাইদ হত্যা মামলার নির্ধারণের ক্ষেত্রে অপরাধ ট্রাইব্যুনালে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হয়েছে। আমরা আশা করি যে, উচ্চ আদালত, আপিল বিভাগে সম্যক সময়ে এই মামলার সমাপ্তি সিদ্ধ করবে এবং দোষীদের দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করবে।

রায় ঘোষণার সময় ট্রাইব্যুনাল বলেছেন, ‘আবু সাঈদ আশা করেছিলেন, তাঁর সামনে মানুষ; কিন্তু তাঁর সামনে মানুষ ছিল না। মানুষগুলো অমানুষ হয়ে গেছিল।’ একটি জবাবদিহিহীন স্বৈরাচারী কাঠামো যে কত মানুষকে ‘অমানুষে’ রূপান্তরিত করতে পারে, হাসিনার শাসনামল তার বড় দৃষ্টান্ত। জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক দপ্তরের সত্য অনুসন্ধান প্রতিবেদনে খুব স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, ক্ষমতা আঁকড়ে থাকার জন্য সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে পুলিশসহ বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় বাহিনী ও সরকারদলীয় সংগঠনগুলোকে বিক্ষোভ দমাতে গুলি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

হাসিনা সরকারের কর্মকাণ্ডে এবং জুলাই অভ্যুত্থানে পুলিশসহ বিভিন্ন বাহিনী ও প্রতিষ্ঠানগুলো বেপরোয়া হয়ে উঠেছিল। এদের ওপর রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ থাকা ছিল, যা স্বৈরতান্ত্রিক সূচনা করত। আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ডের মতো দুঃখজনক ঘটনার পুনরাবৃত্তি রেখে বন্ধ করতে হলে সরকারকে অবশ্যই সব বাহিনীকে সঠিকভাবে কার্যান্বয়ন করতে হবে। আমরা আশা করি, সরকার জুলাই অভ্যুত্থানের জনস্বার্থ মানতে বিচার বিভাগ, মানবাধিকার কমিশন, দুদক, পুলিশ সহ রাষ্ট্রের মৌলিক সংস্কারকে পুনরায় বিবেচনা করবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top