এক খাত থেকে অন্য খাতে টাকা, শেয়ারবাজারে কোথায় সুযোগ, কোথায় ঝুঁকি

প্রকাশ: ১২ এপ্রিল ২০২৬

গত সপ্তাহে দেশের প্রধান শেয়ারবাজারে বিনিয়োগকারীরা মিউচুয়াল ফান্ড, সিরামিক ও ভ্রমণ খাতবিমুখ ছিলেন। এই খাতের শেয়ার থেকে বিনিয়োগকারীরা গত সপ্তাহে সর্বোচ্চ পরিমাণে বিনিয়োগ করেছেন। তাই প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) এই খাতের লেনদেন কমে গেছে। অন্যদিকে, ঢাকার বাজারে বিনিয়োগকারীরা প্রকৌশল, সাধারণ বিমা, ট্যানারি এবং বিবিধ খাতের কোম্পানিতে বিনিয়োগ বাড়িয়েছেন। ফলে, এই খাতের লেনদেন অবশ্যই বেড়েছে।

গত সপ্তাহে ঢাকার বাজারের সাপ্তাহিক বাজারের তথ্য পর্যালোচনা করে এই প্রবণতা পাওয়া গেছে। বাজারসংশ্লিষ্টরা জানাচ্ছেন, যেসব খাত থেকে অন্য খাতে বিনিয়োগ সরিয়ে নেওয়ার প্রবণতা গত সপ্তাহে বেড়েছে। তবে যেসব খাতে বিনিয়োগ বেড়েছে, তারা মূলত কিছু কোম্পানিতে হাতেগোনা বিনিয়োগ করেছে। শেয়ারবাজারে এক খাত থেকে অন্য খাতে বিনিয়োগ সরিয়ে নেওয়া একটি স্বাভাবিক প্রবণতা। বাজারে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে স্বল্পমেয়াদি মুনাফার আশায় এই প্রবণতা দেখা যায়। তবে এতে ঝুঁকি ও থাকে, যদি খাতভিত্তিক লেনদেন নির্দিষ্ট কিছু কোম্পানিতে নির্ভর হয়। তাই এই প্রকার প্রবণতা থাকলে স্বল্পমেয়াদি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীদের অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।

ডিএসইর তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহের শেষে মিউচুয়াল ফান্ডের দৈনিক গড় লেনদেন আগের সপ্তাহের চেয়ে প্রায় 39 শতাংশ কমে 16 কোটি টাকায় নেয়া হয়েছে। আর সিরামিক খাতের দৈনিক গড় লেনদেন কমেছে আগের সপ্তাহের চেয়ে 5 কোটি টাকা। ভ্রমণ খাতের লেনদেন আগের সপ্তাহের চেয়ে 3 কোটি টাকা কমে 6 কোটি টাকায় নেয়া হয়েছে। তার বিপরীতে প্রকৌশল খাতের দৈনিক গড় লেনদেন আগের সপ্তাহের চেয়ে 13 কোটি টাকা বেড়ে 93 কোটি টাকায় উন্নত হয়েছে। আর সাধারণ বীমা খাতের দৈনিক গড় লেনদেন আগের সপ্তাহের চেয়ে প্রায় 10 কোটি টাকা বেড়ে 60 কোটিতে দাঁড়িয়েছে। ট্যানারি খাতের কোম্পানিগুলোর দৈনিক গড় লেনদেন আগের সপ্তাহের চেয়ে 3 কোটি টাকা বেড়ে দাঁড়িয়েছে 9 কোটি টাকায়। এ ছাড়া বিভিন্ন খাতের দৈনিক গড় লেনদেন বেড়েছে আগের সপ্তাহের চেয়ে 14 কোটি টাকা।

বাজারের অভিজাত ব্যক্তিগণ বলছেন, যেসব খাতে বিনিয়োগকারীদের বিশ্বাসের সমস্যা উত্পন্ন হয়েছে, সেখান থেকে বিনিয়োগ পুনরায় নেওয়া হয়েছে। এবং স্বল্প মেয়াদি লাভের আশায় সেই বিনিয়োগ কিছু খাতের হাতে পড়েছে কিছু কোম্পানিতে। একেবারেই সাপেক্ষে জরুরী হলো বিভিন্ন খাতের খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ, ওষুধ খাতের কোম্পানি একমি পেস্টিসাইডস, খাদ্য খাতের কোম্পানি লাভেলো, সেবা খাতের সামিট অ্যালায়েন্স পোর্ট, প্রকৌশল খাতের ডমিনেজ স্টিল, ওষুধ খাতের টেকনো ড্রাগস ইত্যাদি।

সাম্প্রতিকে শেয়ারবাজারের শীর্ষস্থানীয় ব্রোকারেজ হাউস লঙ্কাবাংলা সিকিউরিটিজের একটি জরিপে উঠে এসেছে যে, এই বছরে ব্যাংক খাত শেয়ারবাজারে লেনদেনে নেতৃত্ব দেবে বলে মত দেন জরিপে অংশগ্রহণকারীদের বড় অংশ।আগের সপ্তাহের চেয়ে ঢাকার বাজারের প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৩৮ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে এবং ৫ হাজার ২৫৮ পয়েন্টে পৌঁছেছে। সূচক বাড়লেও লেনদেন হওয়া বেশির ভাগ শেয়ারের দরপতন হয়েছে। কিছু বড় কোম্পানির শেয়ারের মূল্যবৃদ্ধি সূচককে টেনে তুললেও সার্বিকভাবে বাজারে আস্থার সংকট দেখা দিচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top