রোমানের নীরব এক শতকের কীর্তি

প্রকাশ: ১২ এপ্রিল ২০২৬

ঢাকঢোল পেটানো কোনো ঘোষণা নেই। বাংলাদেশের হোকিতে ইতিহাস লেখা হয় নীরবে। চুপচাপ নিজের মতো করে শততম ম্যাচের মাইলফলক পেরেছেন রোমান সরকার। জাতীয় দলের এই মিডফিল্ডার তাঁর শততম ম্যাচটি খেললেন বৃহস্পতিবার হংকংয়ের বিপক্ষে এশিয়ান গেমসের বাছাইয়ে পেনাল্টি শুটআউটে বাংলাদেশের জয় পেয়েছেন গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে, যা নিশ্চিত করেছে এশিয়াডে বাংলাদেশের খেলা। পরদিন চায়নিজ তাইপের বিপক্ষে পঞ্চম স্থান নির্ধারণী ম্যাচে খেললেন নিজের ১০১তম ম্যাচ।

এশিয়া কাপের অভিষেকের পর মালয়েশিয়ার ইপোতে ২০১৩ সালের ৮ আগস্টে রোমান এখন পর্যন্ত ১০১টি ম্যাচে ক্রিকেট খেলেছেন ১৯টি প্রতিযোগিতায়। তাঁর ৩৪টি গোল হয়েছে। তিনি এছাড়া ৫টি ইনডোর ম্যাচ খেলেছেন। অনূর্ধ্ব-১৮ ও অনূর্ধ্ব-১৯ মিলিয়ে আরও ৩৪টি ম্যাচে অংশগ্রহণ করেছেন।

হংকংয়ের বিপক্ষে শততম ম্যাচের আগে এশিয়ান হকি ফেডারেশন তাঁকে একটি ফুলের তোড়া এবং একটি ছোট্ট হকি স্টিক উপহার দিয়েছে। রোমান প্রথম আলোকে ঢাকা ফিরে প্রথম বলেন, ‘আমি কয়েক বছর আগে ওয়েবসাইটে ৮০টি ম্যাচ দেখার পর লক্ষ্য ঠিক করেছিলাম যে ১০০টি ম্যাচ খেলব। আমি এই লক্ষ্যে পৌঁছার জন্য ভাগ্যবান।’ তবে ব্যক্তিগত উল্টো অর্জনের পর তার মন খারাপ হয়েছে, ‘এশিয়ান গেমসে চ্যাম্পিয়ন হতে গিয়ে পঞ্চম হয়ে ফিরেছি। আমাদের ফল আরো ভাল থাকতো উচিত ছিল।’

জন্ম কুমিল্লায় হয়েছে। তবে ছোটবেলায় বাবার ব্যবসার সুবাদে নারায়ণগঞ্জে কাটাতেন। ওসমানী স্টেডিয়ামে ফুটবল খেলতেন। পরে বিকেএসপিতে ভর্তি হওয়া গেছে। হকির প্রতি ভালবাসা জন্মেছে আস্তে আস্তে। ২৮ বছর বয়সী রোমান দেখেছেন দেশের হকির সবচেয়ে বড় তারকা রাসেল মাহমুদ জিমি হওয়া গেছে। বাংলাদেশের হয়ে যাঁর আন্তর্জাতিক ম্যাচসংখ্যা ২০০ ছুঁই ছুঁই গেছে। জিমি বলছেন, ‘বিকেএসপিতে পড়ার সময় আমার ছোট ভাই রাকিনের সঙ্গে রোমানও আমাদের পুরান ঢাকার বাসায় আসত। একসঙ্গে অনেক সময় কাটাতাম। নৌবাহিনীতে যোগ দিয়েছি। জাতীয় দলে একসঙ্গে খেলেছি। আমাদের মধ্যে বন্ধু মতো সম্পর্ক। খেলার প্রতি নিবেদনই তাকে এনেছে এত দূর।’

বর্তমান জাতীয় দলের আশরাফুল ইসলাম এখন শত ম্যাচের সামনে দাঁড়িয়ে আছেন। ২০১৫ সালে জাতীয় দলে অভিষিক্ত এই ডিফেন্ডার ১৭টি প্রতিযোগিতায় ৯৬টি ম্যাচ খেলেছিলেন। রেজাউল করিম ওও শততম ম্যাচের কাছাকাছি। ২০১২ থেকে ফরোয়ার্ড পুষ্কর খীসা মিমোর ম্যাচসংখ্যা ৯৭। মিমোর অভিষেক ২০০৯ সালে, তার মানে নীরবেই শততম ম্যাচে খেলা হয়ে গেছে তাঁর। খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত এই মাইলফলকগুলো শুধুই পরিসংখ্যান নয়। খেলাটির প্রতি তাঁদের নিবেদন, লড়াই আর দৃঢ়প্রতিজ্ঞার জ্বলজ্বলে এক বার্তাও।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top