প্রকাশ: ১২ এপ্রিল ২০২৬
রাত নয়টার শেষ শো ধরব। হাতে সময় কম। অটোরিকশায় উঠে তাড়া লাগাই- চেলোপাড়া যাব, মধুবন মাল্টিপ্লেক্স।মনে করেছিলাম জেলা শহরের হল, যেখানে মফসোসলের আট-দশটা সিঙ্গেল স্ক্রিনের মতো পরিবেশ থাকবে। কিন্তু ঢুকে পেয়েছি একটি সম্পুর্ণ নতুন এবং আধুনিক হল। ১৯৭৪ সালে যাত্রা শুরু করা হলটি মাঝখানে বন্ধ থাকতো। সংস্কার করে কিছুদিন আগে আবার চালু হয়েছে মধুবন।
ঈদের পর প্রায় বিস্ময়কর ২০ দিন পার করেছে। তারপরেও পরদিন ৯ এপ্রিলে জনপ্রিয় স্থানীয় আসনে সংসদ নির্বাচন সম্পন্ন হবে। এর ফলে শেষ শোতে দর্শকেরা একাধিক হতে পারে না, তার প্রেক্ষিতে আমি মনে করেছিলাম। এতেও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সিনেমার দর্শক এগিয়ে নিয়েছে বলে মনে হচ্ছে। তাই দর্শকের সংখ্যা নয়, বরং সিনেমা নিয়ে আলোচনা করা উচিত। ঈদের সিনেমা হিসেবে ‘রাক্ষস’ এর প্রতি অনেক আলোচনা ছিল, তবে তা প্রতিকূলভাবে কম হয়ে গেছে। অন্য সিনেমাগুলো আলোচনায় অগ্রগতি করেছিল। তবে বড় পর্দা সিনেমাটি দেখতে গিয়ে মনে হলো – কিছু কথা বলা উচিত। তবে এটার সাথে সাথে আমার মনে হলো – চুলচেরা কঠোর কোনো রিভিউ এটা না।
আজকালে একটি কথা প্রায়ই শোনা যায়, সিনেমার আসল নায়ক গল্প। কিন্তু ‘রাক্ষস’ দেখতে দেখতে মনে হলো, নায়কই এখানে নায়ক নয়, উল্টো কোথাও গিয়ে গল্পই খলনায়ক। গল্পের ভেতরে একটা অস্থিরতা আছে, একধরনের ছুটে চলা – যা দর্শককে ধরে রাখে, আবার প্রশ্নও তোলে। রান্নায় লবণ কম না বেশি, সেই দ্বিধার মতোই কোথাও একটা অসম্পূর্ণতা রয়ে যায়।তবে বড় পর্দায় যাঁরা ‘নায়কের নায়কগিরি’ দেখতে ভালোবাসেন, তাঁদের জন্য এই সিনেমা নিঃসন্দেহে ‘জিপিএ-৫’। আর এই জিপিএ-৫-এর গোল্ডেন অংশটা একাই নিয়ে গেছেন সিয়াম। যতভাবে তাঁকে দেখানো যায়, তার প্রায় সবটাই দেখিয়েছেন পরিচালক মেহেদি হাসান। আর সিয়ামও নির্ভরযোগ্য ব্যাটসম্যানের মতো পুরো ইনিংস খেলেছেন – কোথাও ছন্দপতন নেই।
বড় পর্দায় সিয়ামকে প্রথম দেখি ‘পোড়ামন ২’-এ। রোমান্টিক, খানিকটা সালমান শাহ হতে চাওয়া গ্রামের এক তরুণ, প্রেমে পড়ে যে সবকিছু ভুলে যেতে পারে, প্রেমিকার জন্য জীবন দিতেও যে প্রস্তুত—এমন চরিত্রে খুব সহজেই দর্শকের মন কেড়েছিলেন সিয়াম। এরপর মৃধা বনাম মৃধায় পেলাম সম্পূর্ণ ভিন্ন আরেক সিয়াম। বাবা-ছেলের সম্পর্ক, দ্বন্দ্ব, আবেগ—সব মিলিয়ে নিজের অভিনয়ের অন্য মাত্রা দেখিয়েছেন। তারপর গত বছরের জংলিতে তাঁর শরীরী ভাষা, অ্যাকশনে বোঝা গিয়েছিল, নিজেকে ভেঙে নতুন করে গড়তে চান সিয়াম।
রাক্ষস-এ সেই পরিবর্তন আরও স্পষ্ট হয়েছে। একদিকে নির্মমতা, অন্যদিকে প্রেম—এই দুটি বিপরীত মনোভাবকে একসঙ্গে ধরা কঠিন কাজ। কিন্তু সিয়ামের ক্ষমতাই এই কঠিনাই সম্পর্কে। তিনি না মাত্র প্রেমিকার জন্য মরতেন, মারতেও তৈরি। সিয়ামের গল্পে দেখা যায়, তিনি নিজের সঙ্গেই প্রতিযোগিতা করছেন। না কেবল পূর্বের সিয়ামের সাথে মিলিয়ে জিতার প্রতিযোগিতা! বরং এখন তিনি নিজের সঙ্গেই মাত্র টক্কর করছেন।তবে এই ইঙ্গিতের পেছনে আরও কারণ আছে। সে ইঙ্গিতটি সম্ঝাতে হলে গল্পের শেষের অবস্থান অপেক্ষা করতে হবে। ‘রাক্ষস’ বললে যেমন ‘খোক্ষস’ আসে, তেমনি এই গল্পেও আরেকটি স্তর আছে, যা শেষে উজ্জ্বল হবে। তবে দর্শকদের আনন্দ বাধিত না হওয়ার জন্য তা আর বলা যাবে না।


