সকালের আলো ফুটতেই ভূমিকম্পে কাঁপল বাংলাদেশ। বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা ১৪ মিনিট ৪৫ সেকেন্ডে এ ভূমিকম্প হয়েছিল এবং এটি নরসিংদীর শিবপুরে উৎপত্তিস্থল ছিল। এটি একটি হালকা ভূমিকম্প ছিল এবং রিখটার স্কেলে ৪ দশমিক ১ মাত্রা ছিল। এক্ষেত্রে, ইউরোপিয়ান মেডিটেরিয়ান সিসমোলজিক্যাল সেন্টার (ইএমএসএস) জানাচ্ছে যে, ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল নরসিংদীতে। গত সোমবার রাতে মিয়ানমারের ফালামে একটি মাঝারি ভূমিকম্প অভ্যন্তরীণভাবে এনেছিল এবং এটি চট্টগ্রাম এলাকায় অনুভূত হয়েছিল। এইভাবে ভূমিকম্পের ঘটনা বেশ সচেতনতা সৃষ্টি করেছে এবং সঠিক পরিকল্পনা ও প্রস্তুতি গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করা হয়েছে।
ভূমিকম্প নিয়ে জনগণের চিন্তা আতঙ্কের মধ্যে রক্তবাহের ইতিহাস রয়েছে এবং ঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন। এই অনুযায়ী, সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনা সম্ভব। একইসাথে, এমন একটি টাস্কফোর্স গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে যা ভূমিকম্প সম্পর্কে প্রাসঙ্গিক বিশেষজ্ঞ ও কর্মকর্তাদের সহায়তা করতে সাহায্য করবে। শেষ 21 নভেম্বরে, কিছু দশক আগে, বাংলাদেশে সবচেয়ে মারাত্মক ভূমিকম্প আঘাত হয়েছিল। ওই ভূমিকম্পে কমপক্ষে 10 জন মানুষ মারা গিয়েছিলেন এবং 600 এর অধিক জন আহত হয়েছিলেন। রিখটার স্কেলে 5.7 মাত্রার এই ভূমিকম্পের সেটি থাকতো নরসিংদীর মাধবদীতে, যা ঢাকা থেকে কেবল 13 কিলোমিটার দূরে ছিল। এর কেন্দ্র ছিল ভূপৃষ্ঠের 10 কিলোমিটার গভীরে। পরদিন সকালে, নরসিংদীর পলাশে 3.3 মাত্রার আরেকটি ভূমকম্প হয়। সন্ধ্যায়, দুটি ভূমিকম্প হয়, একটি ঢাকার বাড্ডা এবং আরেকটি নরসিংদীতে। এখন বারবার ভূমিকম্পের পর, বিশেষজ্ঞরা ঠিক করার জন্য আগ্রহী।
বুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক মেহেদি আহমেদ আনসারী সরকারকে সতর্ক করেছেন এবং বলেছেন, “আজকের ভূমিকম্পটি একটি ‘ফোরশক’ হতে পারে। বড় ভূমিকম্পের আগে, ছোট ছোট ভূমিকম্প এটির মধ্যে একটি।” ভূতত্ত্ববিদ অধ্যাপক সৈয়দ হুমায়ুন আখতার মনে করেন, বাংলাদেশে বড় একটি ভূমিকম্পের ঘাতক ঝুঁকি সামনে আছে। এই ঝুঁকিটি হোক জনগণের সচেতনতা, সরকারের পরিকল্পনা এবং প্রস্তুতির অভাবে প্রভাবিত হতে পারে। ভূমিকম্প নিয়ে জনমনে আতঙ্কের মাঝে, গত 24 নভেম্বরে, বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট কর্মীদের জন্য প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস একটি জরুরি বৈঠক ডাকেন। এই বৈঠকে একটি টাস্কফোর্স গঠন করার নির্ণয় হয়েছে।




