যথাযোগ্য মর্যাদায় ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (ডুয়েট), গাজীপুরে মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপিত হয়েছে।
আজ শনিবার দিবসের প্রথম প্রহর রাত ১২টা ১ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীনের নেতৃত্বে ভাষা শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। এ সময় উপ-উপাচার্য, ডীন, বিভাগীয় প্রধান ও পরিচালকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
পর্যায়ক্রমে প্রভোস্টদের নেতৃত্বে বিভিন্ন হলের শিক্ষার্থীরা, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতি, পরিচালকের (ছাত্রকল্যাণ) দপ্তর, অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন এবং কর্মচারী সমিতির পক্ষ থেকেও শহিদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে ভাষা শহিদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।
এর আগে শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টায় শহিদ মিনার প্রাঙ্গণে মহান শহিদ দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে বিশেষ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আরেফিন কাওসার। পরিচালক (ছাত্রকল্যাণ) অধ্যাপক ড. উৎপল কুমার দাসের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. খসরু মিয়া।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য ১৯৫২ সালের মহান ভাষা আন্দোলনে আত্মত্যাগকারী সকল শহিদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান এবং তাঁদের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন। তিনি বলেন, ‘১৯৫২ সালের ঐতিহাসিক আত্মত্যাগের মাধ্যমে আমরা রাষ্ট্রভাষা হিসেবে মাতৃভাষা বাংলার মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করেছি। সর্বোচ্চ ত্যাগের মাধ্যমে মাতৃভাষার রাষ্ট্রীয় অধিকার আদায় করে পৃথিবীর ইতিহাসে আমরা অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছি। সেই চেতনা ধারণ করেই ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে আমরা স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ অর্জন করি।’
তিনি আরও বলেন, ‘শহিদদের আত্মত্যাগ আমাদের অন্যায়ের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করতে শিখিয়েছে। আমরা কোনো অন্যায়ের কাছে মাথা নত করি না। সেই আদর্শ ধারণ করে ডুয়েটকে বৈষম্যহীন ও ইনসাফপূর্ণ বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।’
এ সময় তিনি শহিদদের আত্মত্যাগে উজ্জীবিত হয়ে সবাইকে দেশ গঠনে আত্মনিয়োগের আহ্বান জানান। পাশাপাশি চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং পঞ্চম শিল্প বিপ্লবের প্রস্তুতির লক্ষ্যে কার্যকর শিক্ষা, টেকসই গবেষণা সংস্কৃতি ও উদ্ভাবনে ডুয়েটের অগ্রযাত্রা আরও বেগবান করতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেন।
দিবসটি উপলক্ষে সূর্যোদয় থেকে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়। এছাড়া বাদ যোহর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে ভাষা শহিদদের আত্মার মাগফেরাত কামনায় বিশেষ দোয়া, মন্দির ও অন্যান্য উপাসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনা এবং ঢাকা ইঞ্জিনিয়ারিং ইউনিভার্সিটি স্কুলের উদ্যোগে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।




