আপডেট: ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বিএনপি সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার পর নতুন রাষ্ট্রপতি নিয়ে এখন আলোচনা চলছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এবং কিছু সংবাদমাধ্যমে বিভিন্ন ব্যক্তিদের নাম উল্লেখ করা হচ্ছে। বিএনপির একজন উৎস বলছে, রাষ্ট্রপতি পদটির জন্য বিবেচনা চলছে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেনের উপর। আরও একজন কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানের নাম উঠছে আলোচনায়। তবে, মোশাররফ হোসেনের উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে বিএনপির একাধিক উৎস।
12 ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি 209টি আসন জিতে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে। আগামীকাল মঙ্গলবার নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ নেওয়া হবে। বিকেলে মন্ত্রিসভার শপথ নেওয়া হবে।মন্ত্রিসভা গঠনের জন্য বিএনপির ভিতরে আলোচনা চলছে। বিভিন্ন নাম আসা থাকলেও কিছু নেতা মন্ত্রী হতে চলেছেন। এর সাথে পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে হবে তা নিয়েও আলোচনা চলছে।নতুন সরকার গঠনের পরে বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করতে পারেন। এই বিষয়ে তিনি গত ডিসেম্বরে রয়টার্সকে এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন।আওয়ামী লীগের অনুমোদনে 2023 সালে বিনা বিরোধে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন 75 বছর বয়সী মো. সাহাবুদ্দিন। তিনি রয়টার্সকে বলেছিলেন, ‘আমি সরে যেতে চাই। আমি চলে যেতে আগ্রহী।’
মো. সাহাবুদ্দিন বলেছিলেন, ‘যাতে নির্বাচন হওয়া না থাকলেও আমি আমার দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছি। সংবিধানের প্রেসেডেন্স মতে, রাষ্ট্রপতির জন্য আমি আমার দায়িত্ব পালন করছি।’রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন অতখানে আরও বলেছিলেন, ‘সব কনস্যুলেট, দূতাবাস ও হাইকমিশনে রাষ্ট্রপতির প্রতিকৃতি, রাষ্ট্রপতির ছবি ছিল। অচানক এক রাতেই সেগুলো উধাও করে ফেলা হয়েছে। এতে মানুষের কাছে একটি ভুল বার্তা গেছে যে সম্ভবত রাষ্ট্রপতিকে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। আমি খুবই অপমানিত বোধ করেছিলাম.’সংবিধানে বলা আছে, রাষ্ট্রপতির কার্যকাল পাঁচ বছর। সে হিসাবে ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত কার্যকাল অবসান হবে মো. সাহাবুদ্দিনের। যদিও তার কার্যকাল শেষ হওয়ার পরে তিনি পর্ষদে থাকবেন না, এটা খুব স্পষ্ট হয়েছে রয়টার্স সংবাদমাধ্যমে তাঁর সাক্ষাত্কারে।যদিও এই আগেও আলোচনা হয়েছিল, বিএনপি সরকার গঠনে কুমিল্লা-১ আসন থেকে নির্বাচিত সাংসদ খন্দকার মোশাররফ হোসেন রাষ্ট্রপতি পদে বসে থাকতে পারেন। খন্দকার মোশাররফ হোসেন এখন ৭৯ বছর বয়সী এবং পূর্বে চারবার সংসদ সদস্য হয়েছিলেন (১৯৯১, ১৯৯৬ এবং ২০০১ সালে)।
বিএনপির একজন উৎসাহী সূত্র বলছেন যে, খন্দকার মোশাররফের দলে কিছুটা কম সক্রিয় হওয়া সম্ভব। এই সময়ে তারা নিজেকে আড়ালে রেখে, যাতে রাজনৈতিক বিতর্কে জড়িত না হয়।আরও জানা গেছে যে, রাষ্ট্রপতি হওয়ার প্রস্তাব প্রস্তাবিত স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানের উপর আলোচনা হচ্ছে, তবে দলের ভেতর তাকে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে ধরা হচ্ছে। খালেদা জিয়ার জানাজায় দলের পক্ষ থেকে বক্তব্য দিয়েছিলেন নজরুল ইসলাম খান। এবার তিনি বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বানিত ছিলেন।রাষ্ট্রপতির পদে কে বসবে, এখনো স্পষ্ট নয়। আগামীকাল মন্ত্রিসভা সদস্যদের নাম জানানো হবে। কিছু দিন পর সম্পূর্ণ খুলে যেতে পারে, রাষ্ট্রপতি হচ্ছে কে।



