রাজবাড়ীতে পেঁয়াজের বাজারের অব্যাহত দরপতনে ক্ষতির আশঙ্কা করছে পেঁয়াজ উৎপাদনে নিয়োজিত চাষিরা। মৌসুমের শুরুতেই দরপতনে ক্ষোভে ফুসছেন তারা। দ্রুত সময়ের মধ্যে সরকার থেকে পেঁয়াজের দাম নির্ধারণের দাবি কৃষকদের।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, পেঁয়াজ উৎপাদনে সারাদেশের মধ্যে তৃতীয় জেলা হিসাবে পরিচিত রাজবাড়ী। জেলার ৪০ হাজার হেক্টর জমিতে পেঁয়াজের আবাদ হয়ে থাকে। দেশের মোট চাহিদার প্রায় ১৫ শতাংশ পেঁয়াজ সরবরাহ করেন এই জেলার কৃষকেরা। রাজবাড়ী জেলায় চলতি বছরে ৪০ হাজার হেক্টর জমিতে পেঁয়াজের আবাদ হয়েছে। যার মধ্যে ৩৪ হাজার হেক্টর জমিতে হালি পেঁয়াজের চাষ হয়ে থাকে। এ বছর ৬ লাখ টন পেঁয়াজের লক্ষ্যমাত্র নির্ধারণ করা হয়েছে।
শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সকালে জেলার বালিয়াকান্দি উপজেলার মাশালিয়া হাটে গিয়ে দেখা যায়, জেলার সদর ও বালিয়াকান্দি উপজেলার বেশ কয়েকটি ইউনিয়ন থেকে পেঁয়াজ আসছে এই হাটে। প্রতি মণ পেঁয়াজ ৮০০ থেকে ৯০০ টাকায় বিক্রি শুরু হয়েছে। অনেক কৃষক পেঁয়াজ বিক্রি না করে ফিরিয়ে নিতে দেখা গেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দিনব্যাপী এই হাটে প্রতি মণ পেঁয়াজ ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে বলে জানা গেছে।
বেশ কয়েকজন কৃষক অভিযোগ করে বলেন, রাজবাড়ীর বাজারে বর্তমানে মুড়িকাটা পেঁয়াজ আসছে। আগামী সপ্তাহ থেকে বাজারে আসবে হালি পেঁয়াজ। এই সময় প্রতি মণ পেঁয়াজ ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা বিক্রি করতে হচ্ছে। যখন ৩৪ হাজার হেক্টর জমির হালি পেঁয়াজ বাজারে আসবে তখন পেঁয়াজের দাম আরও কমে আসবে। ভয়াবহ সিন্ডিকেট সৃষ্টি করে এমন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে বলে দাবি কৃষকদের।
বেশ কয়েকজন পেঁয়াজ চাষি বলেন, এ বছর পেঁয়াজের উৎপাদন খচর বেড়েছে। প্রতি পাখি পেঁয়াজ (২৫ শতাংশ জমি) উৎপদনে প্রায় ৪০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। প্রতি মণ পেঁয়াজ ২ হাজার টাকার কম বিক্রি হলে কৃষকেরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। দ্রুত সময়ের মধ্যে পেঁয়াজের দাম নির্ধারণের দাবি কৃষকেরা।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ পরিচালক মো. শাহিদুল ইসলাম বলেন, রাজবাড়ীতে মুড়িকাটা পেঁয়াজের পর বর্তমানে হালি পেঁয়াজ বাজারে আসতে শুরু করেছে। মৌসুমের শুরুতে পেঁয়াজের দাম স্বাভাবিক ভাবেই কম থাকে। তবে ২ হাজার টাকার নিচে প্রতি মণ পেঁয়াজ বিক্রি হলে কৃষকেরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। মৌসুমের সময় পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ রাখার দাবিও করেন এই কৃষি কর্মকর্তা।




