প্রকাশ: ১৯ মার্চ ২০২৬
মাসব্যাপী রোজার পর পবিত্র ঈদুল ফিতর প্রস্তুতি চলছে। এটি ইসলামি সম্প্রদায়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় উৎসব। এই উৎসবের মাধ্যমে শুধু ধর্মীয় দায়িত্ব পালন নয়; বরং মানবিক সম্প্রীতি, সাদাচার এবং ঐক্যের মূল ভিত্তি স্থাপনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি হয়। ঈদের এই অমূল্য উৎসব ধনী-দরিদ্রের মধ্যে সকলকে একটি অভিন্ন আনন্দে জোড়ে, যেনটা খানিক বৈষম্যের দাগ ছাড়ায় মানুষদের একটি সামাজিক সংকেতে জোড়ায়।
বাংলাদেশ সহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ঈদুল ফিতর উচ্ছ্বাসে উদ্যাপিত হয়। সকালের নির্মল আবহে মুসলমানরা ঈদগাহে সমমেত হয়ে নামাজ আদায় করেন এবং পরস্পরের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। একইভাবে মানবিক বন্ধনের নবায়ন ঘটে। ঘরে ঘরে ফিরনি, পায়েস, মিষ্টান্ন প্রস্তুতের মাধ্যমে যে আন্তরিকতা ও সৌহার্দ্যের পরিবেশ তৈরি হয়, তা সমাজজীবনে ভ্রাতৃত্ববোধ ও ঐক্যের বন্ধনকে আরও দৃঢ় করে।
ঈদ উপলক্ষে শহরের জীবনধারার একটি পরিবর্তনের সাথে বেশি মানুষ গ্রামের বাড়িতে প্রিয়জনদের সঙ্গে সুখে ভাগাভাগি করার সময়। প্রতিবছর এই ভ্রমণের বহুবিধ সুযোগের কারণে জীবনযাপনের এই সাহায্য না থাকলে থাকত না। তবে চলতি বছরে দীর্ঘ ছুটির আনন্দে ভ্রমণের ব্যবস্থা খুব ভালো করে তুলেছে বলে মনে হচ্ছে। ফলে যাতাযাতে আগের তুলনার তুলনায় অনেক পরিবর্তন দেখা গেছে।
কিন্তু এই আনন্দঘন মুহূর্তেও বিশ্বব্যাপী দৃশ্যমান বিষাদের ছায়া ছুঁয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ এবং প্রতিশোধপরায়ণতার ভীতির দৃশ্য মানবতার নৈতিক পরাজয়ের একটি দু: খদায়ক মনোভাব সৃষ্টি করেছে। নিরীহ নারী এবং শিশুদের রক্তে লিপিবদ্ধ হচ্ছে জনগণ; ধ্বংসস্তূপে পরিণত হচ্ছে সভ্যতার নির্মাণ। বিশ্বশক্তিগুলোর নীরবতা বা পরোক্ষ সংযোগ এই সঙ্কটকে আরও জটিল করে তুলছে। এটি শুধুমাত্র একটি অঞ্চলিক সমস্যা নয়; বরং বিশ্বব্যাপী স্থিতিশীলতা, অর্থনীতি এবং মানবিক নিরাপত্তার উপর গভীর প্রভাব পড়ছে, যার প্রভাব আমাদের মতো দূরবর্তী দেশগুলিতেও পৌঁছে যাচ্ছে।




