যশোর শহরের পুলেরহাট বাজারে তুলা, ধান, সার ও কীটনাশকের চারটি গুদামে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে একটি গুদাম সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়েছে এবং অপর তিনটি গুদাম আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টার দিকে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্র জানায়, হঠাৎ করে তুলার একটি গুদাম থেকে আগুনের ধোঁয়া ও শিখা দেখা যায়। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন পাশের ধান, সার ও কীটনাশকের গুদামে ছড়িয়ে পড়ে। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় আশপাশের ব্যবসায়ী ও স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
খবর পেয়ে যশোর ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজে অংশ নেয়। পাশাপাশি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরাও ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। প্রায় দেড় ঘণ্টার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয় ফায়ার সার্ভিস।
যশোর ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানায়, আগুন লাগার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে ফায়ার সার্ভিসের উপপরিচালক জাহাঙ্গীর আহমেদ জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। তিনি আরও জানান, তুলার গুদাম থেকেই আগুনের উৎপত্তি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
তুলার গুদামের মালিক মোহাম্মদ লিটন জানান, তার গুদামে সংরক্ষিত প্রায় ৩ থেকে ৪ লাখ টাকার তুলা সম্পূর্ণভাবে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এছাড়া আব্দুল আজিজ ও ইকবালের মালিকানাধীন ধান, সার ও কীটনাশকের গুদামেও আগুনে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ মালামাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এলাকাবাসী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ফায়ার সার্ভিস, সেনাবাহিনী ও পুলিশের দ্রুত ও সমন্বিত উদ্যোগের ফলে আগুন বড় ধরনের বিপর্যয়ে রূপ নেওয়ার আগেই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। তারা জানান, পুলেরহাট বাজারটি অত্যন্ত জনবহুল হওয়ায় আগুন আরও ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা ছিল।
প্রাথমিকভাবে চারটি গুদামের মোট ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আনুমানিক ৫ থেকে ৬ লাখ টাকা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ।





ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড যশোরে চার গুদামে।