মহাসড়কের ইউটার্ন ও প্রবেশপথ বন্ধের চেষ্টা, বিপাকে ফিলিং স্টেশন-রেস্টুরেন্ট

বগুড়ার শেরপুরের ছোনকা এলাকায় উত্তরবঙ্গের সেবামূলক প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স নাবিল ফিলিং স্টেশন’ ও ‘নাবিল হাইওয়ে রেস্টুরেন্টের’ সামনের মহাসড়কের ইউটার্ন এবং প্রবেশ ও বাইর পথ বন্ধ করার চেষ্টা চলছে। সরকারের গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন প্রকল্প ‘সাসেক-২’ এর আওতায় এই পথগুলো বন্ধ করে দেওয়ার আশঙ্কায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে প্রতিষ্ঠা দুটির কর্তৃপক্ষ। এই প্রবেশপথ বন্ধ করে দেওয়া হলে প্রতিষ্ঠানটি বড় ধরনের ব্যবসায়িক ক্ষতির মুখে পড়বে বলে শঙ্কা তাদের। এতে কয়েকশ কর্মচারী বেকার হয়ে পড়বেন। ইতিমধ্যে এর প্রতিবাদে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন এলাকাবাসী ও স্থানীয় লোকজন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দেশের সব ফিলিং স্টেশনে প্রবেশ ও বাইর পথ থাকলেও মেসার্স নাবিল ফিলিং স্টেশন ও নাবিল হাইওয়ে রেস্টুরেন্টে প্রবেশপথ বন্ধ।

এ প্রসঙ্গে প্রতিষ্ঠানের উপ-মহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) রফিকুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‌‘২০২৩ সালের ২৬ আগস্ট যথাযথ নিয়ম মেনে এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগের অনুমতি নিয়ে শেরপুর উপজেলার ছোনকা এলাকায় ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের পাশে আমাদের ব্যবসায়িক কার্যক্রম শুরু করা হয়। বর্তমানে দুটি প্রতিষ্ঠানে পাঁচ শতাধিক শ্রমিক-কর্মচারী কর্মরত। সড়ক ও জনপথ অধিদফতরের নীতিমালা অনুযায়ী এখানে চলাচলকারী ট্রাক ও বাসসহ সব ধরনের যানবাহনের জন্য সুপরিসর পার্কিং সুবিধা এবং চালক ও শ্রমিকদের জন্য বিনামূল্যে বিশ্রামাগার ও শৌচাগার রয়েছে। এ ছাড়া ফিলিং স্টেশন ১২টি মেশিনের মাধ্যমে ২৪ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্নভাবে জ্বালানি সরবরাহ করে আসছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক সাফল্যে ঈর্ষান্বিত হয়ে একটি মহল ভিত্তিহীন ও মিথ্যা তথ্য দিয়ে মহাসড়ক প্রকল্পের পরিচালকের কার্যালয়ে অভিযোগ করেছে। এর ফলে প্রতিষ্ঠানের সম্মুখভাগের প্রবেশপথ ও ইউটার্নটি বন্ধ করে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। যদি এই প্রবেশপথগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয় তাহলে প্রতিষ্ঠানটি বড় ধরনের ব্যবসায়িক ক্ষতির মুখে পড়বে। শত শত কর্মচারী বেকার হয়ে যাওয়ার শঙ্কা আছে।’

এ বিষয়ে মেসার্স নাবিল ফিলিং স্টেশন ও নাবিল হাইওয়ে রেস্টুরেন্টের পক্ষ থেকে ডিজিএম রফিকুল ইসলাম গত ২৭ জানুয়ারি প্রজেক্ট ম্যানেজার-৩ (সাসেক-২, ডব্লিউপি-৭) বরাবর একটি লিখিত আবেদন জমা দিয়েছেন। ওই আবেদনে বর্তমান ইউটার্ন এবং প্রবেশপথটি বহাল রেখে সেবামূলক প্রতিষ্ঠান দুটিকে টিকে

থাকার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা সমির উদ্দিন, মিনহাজ উদ্দিন, সুজা মিয়া জানান, নাবিল ফিলিং স্টেশন ও নাবিল হাইওয়ে রেস্টুরেন্ট দীর্ঘ এক যুগের বেশি সময় ধরে মানুষের সেবা দিয়ে আসছে। এই রুটে চলাকারী যানবাহনের চালক ও যাত্রীদের জন্য প্রতিষ্ঠান দুটি খুবই প্রয়োজনীয়। কোনও বিশেষ মহলের স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য যদি প্রবেশপথ বন্ধ করা হয়, তবে সাধারণ মানুষ সেবাবঞ্চিত হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top