মাঘ মাস শেষ হতে যাচ্ছে। সকালের প্রাথমিক রঙ ভেদ করে সূর্যের আলো ফুটবার সাথে দিনের কর্মব্যস্ততা শুরু হয়েছে। চায়ের দোকানে ভোটের আলাপ নিয়ে চলছে। চট্টগ্রাম-১৫ আসনে সংসদ সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থীদের মধ্যে ভোটের বার্তা মাথায় রেখেছে গ্রামীণ জনপদ। গতকাল সকালে লোহাগাড়া উপজেলার আমিরাবাদ ইউনিয়নে একটি বড় চায়ের দোকানে ভোটের আলাপ চলছিল। কথার মিছিলে ভোটের পক্ষে সংশয় ও আশঙ্কা রয়েছে কিন্তু সবাই মনে করছে, ভোট প্রক্রিয়া নিরাপত্তা অবশ্যই থাকবে। এই রকম চারিদিকে ভোটের গল্প চলছে, আশা করা হচ্ছে প্রজাপক্ষ ভোটে জনগণের আশেপাশে থাকবে। মঙ্গলনগর থেকে আরও এক কিলোমিটার উত্তরে গেলেই সাতকানিয়া–লোহাগাড়া সীমান্তবর্তী টঙ্কাবতীর মুখ এলাকা। হাঁটুসমান পানিতে হেঁটে নদী পার হচ্ছিলেন স্থানীয় পল্লিচিকিৎসক অজিত নন্দী (৪৯)। হতাশার সুরে তিনি বলেন, ‘দেশে আমরা নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে আছি। উন্নয়ন হোক আর না হোক, আমরা শান্তি চাই। নিরাপত্তা চাই। আমাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সক্ষম, এমন প্রার্থীকেই আমরা ভোট দেব।’ চট্টগ্রাম–১৫ আসনে জামায়াতের বর্তমান প্রার্থী শাহজাহান চৌধুরী ১৯৯১ ও ২০০১ সালে দুই দফা সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। অন্যদিকে স্বাধীনতার পর বিএনপি প্রার্থী হিসেবে প্রয়াত মোস্তাক আহামদ চৌধুরী এবং সবশেষ ১৯৯৬ সালে কর্নেল (অব.) অলি আহমদ (বীরবিক্রম) এই আসনে জয়লাভ করেন। ২০০৮ সালে বিএনপি–জামায়াত জোটের প্রার্থী হিসেবে জামায়াতের নায়েবে আমির শামসুল ইসলাম জয়ী হন। ফলে ঐতিহাসিকভাবেই আসনটি বিএনপি ও জামায়াতের শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতার ক্ষেত্র হিসেবে পরিচিত।২৫ বছর পর এ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী পেয়ে উজ্জীবিত বিএনপির নেতা–কর্মীরা। অপর দিকে জামায়াতের প্রার্থী শাহজাহান চৌধুরী এ আসনের অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ। স্থানীয় লোকজন মনে করছেন, এবার হেভিওয়েট এই দুই প্রার্থীর হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে। উল্লেখযোগ্যসংখ্যক সংখ্যালঘু ও আওয়ামী লীগের ভোট ব্যবধান গড়ে দিতে পারে। তরুণ ভোটাররাও প্রভাবক হয়ে উঠছেন। এ ছাড়া মূল প্রতিদ্বন্দ্বী দুই প্রার্থীর বাড়ি দুই উপজেলায়। সে ক্ষেত্রে আঞ্চলিকতার প্রভাবও পড়তে পারে। আমিরাবাদ স্টেশনের তরুণ ব্যবসায়ী আবদুল্লাহ শরীফ (৩০)। ভোট নিয়ে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘ভোটার হয়েছি ১১ বছর আগে। তবে এখনো ভোট দিতে পারিনি। সবকিছু ঠিক থাকলে জীবনের প্রথম ভোট দেব যে প্রার্থীর চিন্তাভাবনা তরুণদের সঙ্গে মিল রয়েছে। যিনি কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবেন।’উত্তর আমিরাবাদে খেতের আগাছা পরিষ্কার করছিলেন শামসুন্নাহার বেগম (৫০)। তিনি বলেন, ‘২০১৪ সালে ভোট দিতে যাইনি। ২০১৮ সালে মারামারি হয়েছিল। ভোট দিতে গিয়ে ফিরে এসেছি। ২০২৪ সালে আর যাইনি। ভোট দিলেও আমাদের কোনো পরিবর্তন হয় না। রাস্তাঘাটের অবস্থাও খারাপ। আমাদের দুর্ভোগ রয়ে যায়। তবু পরিবর্তনের আশায় ভোট দেব।’



