‘সালাম, বরকত, রফিক, জব্বার ও শফিউরের মতো ভাষা শহীদদের আত্মত্যাগই বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলনের ভিত্তি গড়ে দেয়, যা পরবর্তীতে স্বাধীনতার পথ প্রশস্ত করে এবং ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের পথপ্রদর্শক হিসেবে কাজ করে’— মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।
শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস-২০২৬ উপলক্ষে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দা নুরমহল আশরাফী।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য মো. কামরুজ্জামান।
সভা শুরুর আগে দুইজন শিক্ষার্থী ভাষা আন্দোলন নিয়ে তাদের অনুভূতি ব্যক্ত করেন এবং আরও দুইজন শিক্ষার্থী ভাষা আন্দোলনভিত্তিক কবিতা আবৃত্তি করেন। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে আত্মোৎসর্গকারী শহিদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে আলোচনা পর্ব শুরু হয়।
বক্তারা বলেন, ভাষা শহীদদের আত্মত্যাগ বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলনের ভিত রচনা করে। সেই আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় স্বাধীনতা অর্জিত হয় এবং গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম শক্তিশালী হয়। নতুন প্রজন্মের কাছে একুশের চেতনা পৌঁছে দিতে এবং বাংলা ভাষার মর্যাদা সমুন্নত রাখতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তারা।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলম, পিপিএম; জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমা নাহার; উপপরিচালক, স্থানীয় সরকার মৌসুমী মাহবুব; কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. মো. হাবিবুর রহমান; অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মুহাম্মদ মুছাব্বেরুল ইসলাম; অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মো. মাহমুদুর রহমান খোন্দকার; মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. তৌহিদুল ইসলাম; সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাসুদুর রহমান; সরকারি হরগঙ্গা কলেজ ও সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ; যুগ্ম পরিচালক, এনএসআই; জুলাই যোদ্ধাবৃন্দসহ বিভিন্ন দপ্তরের প্রধান ও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে আগত শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।
অনুষ্ঠান শেষে মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।




