বিশ্ববাজারে স্বর্ণ ও রুপার দামে বড় ধরনের পতন

স্বর্ণ ,ও রুপার দাম ,বড় ব্যবধানে কমেছে । 

প্রকাশ :; ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬,

আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবান ধাতুর দামে আবারও বড় ধরনের প্রতিশ্রুতি নেমেছে। গত কয়েক দিনে দাম কিছুটা বাড়লেও শক্তিশালী মার্কিন ডলারের চাপ এবং বিশ্বব্যাপী প্রযুক্তি-নির্ভর শেয়ারবাজারে অস্থিরতার কারণে স্বর্ণ ও রুপার দাম বড় ব্যবধানে কমেছে।

শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ কমে প্রতি আউন্সে ৪ হাজার ৭৩৫ দশমিক ৯৯ ডলারে নেমে এসেছে। একই সময়ে মার্কিন স্বর্ণের ফিউচার মূল্য ২ দশমিক ৮ শতাংশ হ্রাস পেয়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৭৫২ দশমিক ৪০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

রুপার বাজারে সাম্প্রদায়িক হার আরও ভয়াবহ হয়েছে, যেখানে দাম ৩ দশমিক ২ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৬৮ দশমিক ৯৭ ডলারে পৌঁছেছে। প্রথমের সেশনে রুপার দাম প্রায় ১৯ শতাংশ প্রবণতা করেছে।মূল্যবান ধাতুর এই দরপতনের পিছনে প্রধানত বৈশ্বিক ইকুইটি সূচকের নিম্নমূল্যীকরণ প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে বৃদ্ধি পেলে বড় ব্যয়ের চাপ ছড়িয়ে যাচ্ছে এবং বিনিয়োগকারীদের মাঝে উদ্বেগ বাড়িয়ে আনছে। গত বৃহস্পতিবার এমএসসিআইর বৈশ্বিক সূচক ১ শতাংশের বেশি প্রবণতা পেয়েছে।

একই সাথে মার্কিন ট্রেজারির চাহিদা বাড়ছে এবং পণ্যের বাজারে অস্থিরতা তৈরি হচ্ছে, যা রুপার দামকে আরও নিম্ন করেছে। মার্কিন ডলার বর্তমানে দুই সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে, যা স্বর্ণের মতো ধাতুর দাম কমিয়ে দিতে সরাসরি প্রভাব ফেলেছে। সাধারণত ডলার শক্তিশালী হলে অন্যান্য মুদ্রার বিপরীতে স্বর্ণ কেনা ব্যয়বহুল হয়ে পড়ে, যার ফলে বিশ্ববাজারে এর চাহিদা ও দাম কমে যায়।যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারের দুর্বল তথ্যও এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। মার্কিন শ্রম বিভাগের সর্বশেষ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ডিসেম্বরের শেষে চাকরির সুযোগ প্রায় ৩ লাখ ৮৬ হাজার কমেছে,

যা ২০২০ সালের পর সর্বনিম্ন। শ্রমবাজারের এই মন্দা পরিস্থিতি সাধারণত সুদের হার কমানোর পথ প্রশস্ত করে।বিনিয়োগকারীরা আশা করছেন যে, ২০২৬ সালে ফেডারেল রিজার্ভ অন্তত দুই দফায় সুদের হার কমাতে পারে, যার প্রথমটি জুনে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। সাধারণত সুদের হার কমলে স্বর্ণের মতো অ-ফলনশীল সম্পদে বিনিয়োগের আকর্ষণ বাড়ে, তবে বর্তমান ডলারের অতি-শক্তিশালী অবস্থান সেই সম্ভাবনাকে আড়াল করে রেখেছে।ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং অন্যান্য ধাতুর দামেও এর প্রতিফলন দেখা গেছে। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে যে,

ইরানের সঙ্গে সংকট মোকাবিলায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কূটনীতিকে অগ্রাধিকার দিলেও সামরিক বিকল্প খোলা রেখেছেন।এই অনিশ্চিত পরিস্থিতির মাঝে স্পট প্লাটিনামের দাম ৩ দশমিক ৬ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ১ হাজার ৯১৬ দশমিক ৪৫ ডলারে নেমেছে, যদিও গত ২৬ জানুয়ারি এটি সর্বকালের সর্বোচ্চ উচ্চতায় পৌঁছেছিল। তবে ব্যতিক্রম হিসেবে প্যালাডিয়ামের দাম কিছুটা বেড়ে ১ হাজার ৬৩৮ দশমিক ২৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারের এই অস্থিতিশীলতা কতদিন স্থায়ী হয়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

2 thoughts on “বিশ্ববাজারে স্বর্ণ ও রুপার দামে বড় ধরনের পতন”

  1. আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবান ধাতুর দামে আবারও বড় ধরনের প্রতিশ্রুতি নেমেছে। গত কয়েক দিনে দাম কিছুটা বাড়লেও শক্তিশালী মার্কিন ডলারের চাপ এবং বিশ্বব্যাপী প্রযুক্তি-নির্ভর শেয়ারবাজারে অস্থিরতার কারণে স্বর্ণ ও রুপার দাম বড় ব্যবধানে কমেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top