বাসে পরিচয় থেকে বিয়ে, এরপর হত্যা, ১৩ বছর পর স্বামীকে গ্রেপ্তার: র‍্যাব

প্রকাশ: ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

ফরিদপুরের মধুখালীতে স্ত্রী মীরা আক্তার (৩০) হত্যা মামলার প্রধান আসামি স্বামী মোস্তফা কামালকে (৪২) প্রায় ১৩ বছর পর গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব। গতকাল বুধবার সন্ধ্যা ছয়টার দিকে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলা সদরের আনসার রোড এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।র‍্যাবের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার ও সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) তাপস কর্মকার স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

২০১৩ সালের ১ জানুয়ারি, মিরা আক্তারের লাশ উদ্ধার করা হয়। তারপর তার স্বামী মোস্তফা কামালের লাশ উদ্ধার করা হয়। মোস্তফা ফরিদপুর সদর উপজেলার উজ্জ্বল মল্লিকপুর গ্রামের আব্দুল আলীর ছেলে।আদালতের তথ্য অনুযায়ী, মিরা আক্তারের হত্যার মামলায় ফরিদপুরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়েরা জজ প্রথম আদালতের বিচারক অশোক কুমার দত্ত ২০২৪ সালের ৫ সেপ্টেম্বর রায় ঘোষণা করেন। রায়ে মোস্তফা কামাল এবং তার সহযোগী মজিদ মোল্লাকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড এবং প্রত্যেকজনকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানা পরিশোধ না করলে আরও তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়।

মিরা ২০১২ সালে ফরিদপুর শহর থেকে মধুখালী উপজেলার কামারখালীতে নিজের বাড়িতে যাচ্ছিলেন। একবার তার পাশের সিটে বসা যাত্রী মোস্তফা কামালের সঙ্গে পরিচয় হয়। তাঁদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক হয়। গোপনে বিয়ে হয়। বিয়ের পরে শ্বশুরবাড়িতে যাওয়া নিয়ে মিরার সঙ্গে মোস্তফার বিরোধ হতো। একপ্রয়ায়ে মিরা সিদ্ধান্ত নিয়েন, স্বামীকে না জানিয়ে তিনি শ্বশুরবাড়িতে যাবেন। ২০১২ সালের ২৮ ডিসেম্বর মিরা রওনা হলে মোস্তফা তাকে বাস থেকে নামিয়ে নিয়ে যান। পরে মজিদ মোল্লার সহায়তায় মিরাকে হত্যা করা হয়।

মধুখালী থানার পুলিশ ২০১৩ সালের ১ জানুয়ারি তারিখে একটি অজ্ঞাতনামা লাশ হিসেবে মীরার মৃতদেহ উদ্ধার করে। পুলিশ এই ঘটনার বাদী হিসেবে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দাখিল করে। মামলার তদন্ত পরিণামে মধুখালী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাহিদুল হক ২০১৮ সালের ৩১ মে মোস্তফা কামাল ও মজিদ মোল্লার বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জারি করেন।

র‍্যাবের বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে একসঙ্গে কাজ করা ছিল র‍্যাব-১০ এবং র‍্যাব-১ দলের মোস্তফা কে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল গতকাল।মধুখালী থানার প্রধান পুলিশ অফিসার (ওসি) মো. তাইজুর রহমান বলেছিলেন যে, আজ সকালে র‍্যাব কর্মীকে পুলিশ স্থানীয় থানার ভবনে অবস্থান করিয়েছিল। তাঁকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top