বনদস্যু আতঙ্কে দুবলার শুঁটকি পল্লীতে ১৫ হাজার জেলে, সাগরে মাছ ধরা বন্ধ

বনদস্যুদের তৎপরতা বেড়ে যাওয়ায় দেশের সর্ববৃহৎ শুঁটকি পল্লী দুবলাতে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। মুক্তিপণের দাবিতে ২০ জেলে অপহরণের পর থেকে প্রায় ১৫ হাজার জেলে সাগর ও সুন্দরবনের নদীতে মাছ ধরা বন্ধ রেখেছেন। 

মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে তারা শুঁটকি পল্লীর চরে অবস্থান করছেন।

দুবলা ফিসারম্যান গ্রুপ ও সুন্দরবন বিভাগ সূত্রে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

দুবলা ফিসারম্যান গ্রুপের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. কামাল উদ্দিন আহমেদ জানান, সুন্দরবনে বর্তমানে জাহাঙ্গীর, সুমন, শরীফ ও করিম বাহিনী নামে চারটি বনদস্যু দল সক্রিয় রয়েছে। এসব দস্যু বাহিনীর কারণে জেলেদের নিরাপত্তা নেই। প্রায়ই মুক্তিপণের দাবিতে জেলেদের অপহরণ করা হচ্ছে।

সবশেষ দুদিন আগে সুন্দরবন উপকূলের নারিকেলবাড়ীয়া ও আমবাড়ীয়ার সাগরসংলগ্ন খাড়ি এলাকা থেকে ২০ জেলেকে অপহরণ করা হয়। বুধবার বিকেল পর্যন্ত তাদের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় জেলেদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। শুঁটকি আহরণ মৌসুমের শেষ সময়ে এসে কাজ বন্ধ থাকায় জীবিকা নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন তারা।

জেলেদের জানান, দস্যুরা সুন্দরবন ও সাগরে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। অপহরণের পর মুক্তিপণ আদায় করে জেলেদের ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। টাকা দিতে না পারলে মারধরের ঘটনাও ঘটছে। গত সপ্তাহে দস্যুদের মারধরে আহত চার জেলে রামপাল হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

২০১৮ সালে র‌্যাবের কাছে কয়েকটি বনদস্যু বাহিনীর আত্মসমর্পণের পর তৎকালীন সরকার সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত ঘোষণা করেছিল। এরপর কয়েক বছর জেলেরা তুলনামূলক নিরাপদে মাছ ধরতে পারলেও সম্প্রতি আবারও দস্যু তৎপরতা বেড়েছে বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।

আলোরকোলের শুঁটকি পল্লীর রামপাল জেলে সমিতির সভাপতি মোতাসিম ফরাজী বলেন, আগে বলা হতো ‘সুন্দরবনে জলে কুমির, ডাঙায় বাঘ’। এখন এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বনদস্যুতা। গত ১৫ দিনে অনেক জেলেকে অপহরণ করা হয়েছে। বর্তমানে শতাধিক জেলে দস্যুদের কব্জায় থাকতে পারে বলে তাদের আশঙ্কা।

এদিকে দস্যু আতঙ্কে জেলেরা মাছ ধরার পাস পারমিট নিচ্ছেন না বলে জানিয়েছে বন বিভাগ। দুবলা টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, ফরেস্ট রেঞ্জার মিলটন রায় বলেন, মাছ ধরা বন্ধ থাকায় রাজস্ব ঘাটতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। মাসিক রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রায় এর প্রভাব পড়তে পারে।

শরণখোলা বাজারের কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, জেলেরা সুন্দরবনে না যাওয়ায় তাদের বিক্রি প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে।

শরণখোলা রেঞ্জ কর্মকর্তা (এসিএফ) মো. শরীফুল ইসলাম বলেন, বনদস্যু তৎপরতা বৃদ্ধির বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। বনরক্ষীদের টহল জোরদার করা হয়েছে। জেলেদের নিরাপত্তায় কোস্টগার্ড ও র‌্যাবের সহায়তা চাওয়া হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top