বগুড়ার শাজাহানপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত গৃহবধূ মোছা. চামেলী বেগমের (৩৫) মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ঢাকা-বগুড়া মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ পালন করেন।
শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সকালে উপজেলার বেতগাড়ী দ্বিতীয় বাইপাস মোড়ে এই ঘটনা ঘটে। প্রায় পৌনে এক ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করে রাখেন তারা। এ সময় উভয় পাশে যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম) আসনের সংসদ সদস্য মোশারফ হোসেন ও প্রশাসনের আশ্বাসে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
জানা গেছে, বুধবার ১৮ ফেব্রুয়ারি বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার বেতগাড়ী দ্বিতীয় বাইপাস মোড়ে বাসের ধাক্কায় ইজিবাইক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন চামেলী বেগম। দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) রাত ২টার দিকে তার মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনায় নিহত চামেলির দুই বছরের শিশুসন্তান সোয়াদও আহত হয়। বর্তমানে শিশুটি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এ ঘটনায় ওই পরিবারের আরেক শিশুকন্যা নেহা ও ইজিবাইকচালক সেলিম আহত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এদিকে চামেলী বেগমের মৃত্যুর খবরে ক্ষুব্ধ হয়ে শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তার মরদেহ নিয়ে বেতগাড়ী বাইপাস মোড়ে অবস্থান নেন এলাকাবাসী। এ সময় তারা ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কের উভয় পাশ বন্ধ করে দেন। আন্দোলনকারীদের দাবি, জনবহুল এই মোড়ে স্থায়ী ট্রাফিক পুলিশ নিয়োগ এবং দ্রুত একটি ফ্লাইওভার বা ওভারব্রিজ নির্মাণ করতে হবে। এ সময় সড়ক অবরোধের ফলে মহাসড়কের উভয় পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম) আসনের সংসদ সদস্য মোশাররফ হোসেন। তিনি বিক্ষুব্ধ জনতাকে আশ্বস্ত করে বলেন, দুর্ঘটনা রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণে যা যা প্রয়োজন তা বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হবে। এ সময় তিনি বগুড়া জেলা প্রশাসক ও সড়ক বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন।
নিহতের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে সংসদ সদস্য মোশাররফ হোসেন শিশুসন্তান সোয়াদের চিকিৎসা সহায়তায় ২০ হাজার টাকা অনুদান প্রদান করেন। পাশাপাশি বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অবহিত করার আশ্বাস দেন। পরে তার আশ্বাসের প্রেক্ষিতে বেলা ১১টার দিকে বিক্ষুব্ধ জনতা নিহতের মরদেহ সরিয়ে নিয়ে অবরোধ প্রত্যাহার করেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বেতগাড়ী বাইপাস মোড় দীর্ঘদিন ধরেই ঝুঁকিপূর্ণ। যথাযথ অবকাঠামোগত ব্যবস্থা ও নিয়ন্ত্রণ না থাকায় এখানে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। সর্বশেষ এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।




