নির্বাচন ঘিরে সহিংসতা, পটুয়াখালী-২ ও ৩ আসনে নিরাপত্তা জোরদার

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে পটুয়াখালী-২ (বাউফল) এবং পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা-দশমিনা) আসনে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন করেছে প্রশাসন। প্রাথমিক তথ্যাদি অনুযায়ী, পটুয়াখালী-২ এবং পটুয়াখালী-৩ আসনে ১৩ তারিখে সহিংসতার ঘটনা ঘটে। বিএনপি-জামায়াত প্রার্থীদের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে প্রায় ৪০ জন আহত হন। অতএব, প্রশাসন উভয় আসনে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিয়ন্ত্রণে রাখতে অবদান রাখছে।এদিকে, চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের জামায়াতের নারী শাখার সভাপতি লিমা জাহান নামের এক অন্তঃসত্ত্বা নারীকে মারধর করা হয়েছিল। এছাড়া, বিএনপির প্রার্থী সহিদুল আলম তালুকদারের কর্মী-সমর্থকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ হয়েছিল। মানবিকভাবে লিখতে গিয়ে, এই ঘটনার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রেখে প্রশাসন কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিল। আশা করা হচ্ছে এই প্রতিবাদকে স্বাগত জানানো হবে।

বাউফলের ঘটনাতে জেলা পুলিশ সুপার আবু ইউসুফ এনে দেওয়া জানানো হয়েছে, যেখানে সহিংসতা সম্পর্কে বাউফল আসনে বৃদ্ধি পেয়েছে ৬০ থেকে ৭০ জন পুলিশ মোতায়েন। চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নে স্থানীয়ভাবে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়নের অনুমতি চাওয়ার জন্য জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তাদের দ্বারা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। একইভাবে, বাউফল উপজেলায় সেনাবাহিনী, পুলিশ, বিজিবি ও আনসার ব্যাটালিয়ন সদস্যদের নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।পটুয়াখালী-৩ আসনে বিএনপি জোটের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছেন গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নূর। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে মাঠে আছেন বিএনপির ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী হাসান মামুন, জামায়াতের মুহাম্মদ শাহ আলম ও ইসলামী আন্দোলনের মু. আবু বক্কর সিদ্দিকী।তফসিল ঘোষণার পর থেকে এ আসনে নুরুল হক নূর ও হাসান মামুনের কর্মী-সমর্থকদের ঘরে অগ্নিসংযোগের পাশাপাশি কমবেশি প্রায় ১৫ থেকে ২০টি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সহিংসতার ঘটনাতে দুই পক্ষ থেকে পাল্টাপাল্টি চারটি মামলা হয়। প্রশাসনের কাছ থেকে কয়েকবার সতর্ক নোটিশ পাঠানোর পরও উভয় দলের উত্তেজনা কমেনি।গতকাল নুরুল হক নূরের নিজ এলাকা চরবিশ্বাস ও চরকাজল ইউনিয়নে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। অন্যদিকে, হাসান মামুনের দশমিনা উপজেলার অন্তর্গত চরবোরহান ইউনিয়নের দুটি ভোটকেন্দ্রের জন্য অতিরিক্ত এক প্লাটুন সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। জেলা রিটার্নিং কার্যালয়ের তথ্যে বলা হয়, প্রতিটি আসনের জন্য চার প্লাটুন সেনা মোতায়েন করা হলেও পটুয়াখালী-৩ আসনের দুটি উপজেলায় ১০ প্লাটুন সেনা মোতায়েন করা হয়েছে।জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘নির্বাচন ঘিরে পটুয়াখালী-২ ও পটুয়াখালী-৩ আসনে বেশ কয়েকটি সহিংসতার ঘটনায় উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। এ দুটি আসনে নির্বাচনের এই সময়ে নির্ধারিত বাহিনীর পাশাপাশি অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। আমরা এ দুটি আসনের প্রতি বিশেষ নজর রাখছি।’

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top