টঙ্গীতে হারবাল ব্যবসার আড়ালে ইয়াবা তৈরি

তৌহিদুজ্জামান ওরফে শিমুল (৩২)। স্থানীয়ভাবে হারবাল ব্যবসায়ী ও কেমিস্ট হিসেবে পরিচিত। এর আড়ালে তিনি গাজীপুরের টঙ্গীর বাসায় গোপনে গড়ে তোলেন ইয়াবা তৈরির ল্যাব।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) ঢাকা বিভাগীয় গোয়েন্দা কার্যালয় সূত্র জানায়, তারা বৃহস্পতিবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে টঙ্গীর বসুন্ধরা কাজীবাড়ি পুকুর পাড়ে অভিযান চালান। তৌহিদুজ্জামানের বাসায় ট্যাবলেট তৈরির ডাইস, কাঁচামাল, রং, ফ্লেভার, স্টার্চ, ক্যাফেইন ও সাড়ে চার হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করেন। গ্রেপ্তার করা হয় তৌহিদুজ্জামানকে।

গোয়েন্দারা জানান, প্রায় চার মাস ধরে তিনি বাসায় মিনি ল্যাব বসিয়ে ইয়াবা তৈরি ও সরবরাহ করছিলেন। এ ঘটনায় ডিএনসির ঢাকা বিভাগীয় গোয়েন্দা কার্যালয়ের উপপরিদর্শক আবু নাসের টঙ্গী পূর্ব থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করেন। গতকাল শুক্রবার তৌহিদুজ্জামানকে গাজীপুরের আদালতে হাজির করা হয়। আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। তার গ্রামের বাড়ি সাতক্ষীরার আশাশুনি থানার পাইথালী এলাকায়।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, তৌহিদুজ্জামানের ল্যাবে তৈরি ট্যাবলেটে মাদকের মাত্রা অনির্দিষ্ট থাকে। কখনও অতিরিক্ত উত্তেজক, কখনও আবার কার্যকারিতা কম। এতে ব্যবহারকারীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ে। অনিয়ন্ত্রিত মাত্রায় ক্যাফেইন ও অন্যান্য রাসায়নিক মিশ্রণে হৃদযন্ত্র, স্নায়ুতন্ত্র ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর গুরুতর প্রভাব পড়তে পারে। যে যন্ত্রে ইয়াবা তৈরি করা হচ্ছিল, সেটি দিয়ে আগে হারবাল ট্যাবলেট বানানো হতো। হারবাল ব্যবসা ছেড়ে তৌহিদুজ্জামান মাদক তৈরিতে জড়িয়ে পড়েন। তিনি ইয়াবা সেবন করতেন বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন।

এর আগে জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে ওয়ারীতে মাদক ‘কুশ’র একটি ল্যাবের সন্ধান পায় ডিএনসি। বিপুল পরিমাণ মাদক ও উৎপাদন উপকরণ জব্দ করা হয়। সেখান থেকে বাসার তত্ত্বাবধায়ক রাজু শেখকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। ওই বাসায় বিশেষ পদ্ধতিতে কুশ উৎপাদন করা হতো। ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে ধানমন্ডির জিগাতলায় ক্রিস্টাল মেথের (আইস) ল্যাবের সন্ধান পাওয়া যায়।
ডিএনসির ঢাকা বিভাগীয় গোয়েন্দা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. মেহেদী হাসান সমকালকে বলেন, ছোট আকারের ল্যাব খুঁজে বের করা বড় চ্যালেঞ্জ। ডিএনসির মহাপরিচালকের নির্দেশে গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত থাকায় টঙ্গীর এই ল্যাবের সন্ধান পাওয়া যায়। এই চক্রের সঙ্গে আর কেউ জড়িত আছে কিনা, সরবরাহ নেটওয়ার্ক কোথায় বিস্তৃত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top