গাকৃবিতে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত

যথাযোগ্য মর্যাদা, গভীর শ্রদ্ধা ও আবেগঘন পরিবেশে ভাষা শহিদদের স্মরণে শনিবার মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করেছে গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়। সকাল ৭টায় প্রশাসনিক ভবন সংলগ্ন চত্বরে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিতভাবে উত্তোলনের মধ্য দিয়ে দিনের কর্মসূচির সূচনা হয়। 

পরে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সকল সদস্য কালো ব্যাজ ধারণ করেন। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. জিকেএম মোস্তাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে প্রভাতফেরী প্রশাসনিক চত্বর থেকে বের হয়। শিক্ষক সমিতির সদস্য, পরিচালক, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাইমারি ও হাই স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বৃহৎ অংশগ্রহণে প্রভাতফেরীটি বিশ্ববিদ্যালয় পরিভ্রমণ করে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারের পাদদেশে এসে শেষ হয়। 

পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে প্রথম পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন ভাইস-চ্যান্সেলর। এরপর পর্যায়ক্রমে শিক্ষক সমিতি, শিক্ষকবৃন্দ, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাইমারি ও হাই স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা, প্রভোস্ট সমন্বয়ে ৬টি হলসমূহের শিক্ষার্থীবৃন্দ এবং কর্মকর্তাবৃন্দ-কর্মচারীবৃন্দ পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। 

এরপর পরিচালক (ছাত্রকল্যাণ) প্রফেসর ড. মোহাম্মদ শরীফ রায়হানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে মহান মাতৃভাষার তাৎপর্য ও চেতনা নিয়ে এক সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বক্তৃতা করেন ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. জিকেএম মোস্তাফিজুর রহমান, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এম. ময়নুল হক, ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোঃ সফিউল ইসলাম আফ্রাদ, শিক্ষক সমিতির সভাপতি প্রফেসর ড. নাসরীন আক্তার আইভী, সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর ড. মোহাম্মদ সাইফুল আলম, রেজিস্ট্রার মোঃ আবদুল্লাহ্ মৃধা এবং সিনিয়ক শিক্ষক প্রফেসর ড. মোঃ আবু আশরাফ খান। 

ভাইস-চ্যান্সেলর তাঁর আবেগঘন বক্তব্যে ২১শে ফেব্রুয়ারিকে ‘প্রেরণা ও সংগ্রামের চিরন্তন উৎস’ হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, “পৃথিবীর ইতিহাসে বাংলা ভাষাই একমাত্র ভাষা, যার জন্য প্রাণ বিসর্জনের নজির রয়েছে এবং যে ভাষা আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। তিনি আরও বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে জনগণের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটায় দীর্ঘদিনের হারানো গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এ জন্য তিনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তাঁর নবগঠিত মন্ত্রিসভাসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান এবং দেশের কল্যাণে তাদের সফল নেতৃত্ব কামনা করেন। ভাষা আন্দোলনের অমর চেতনা বুকে ধারণ করে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণার মধ্য দিয়ে একটি স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্রের জন্ম হয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন। 

দিনব্যাপী কর্মসূচিতে বাদ জোহর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে শহিদদের পবিত্র আত্মার মাগফিরাত এবং দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়ার আয়োজন করা হয়। 

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top