প্রকাশ: ১৭ মার্চ ২০২৬
চন্দ্রা এলাকায় দায়িত্বশীল হাইওয়ে পুলিশের এক সদস্য বলেন, ‘সকাল থেকেই যানবাহনের চাপ বাড়ছে। এখনো বড় ধরনের যানজট তৈরি হয়নি, তবে ধীরগতি রয়েছে। চাপ আরও বাড়লে পরিস্থিতি খারাপ হতে পারে। আমরা যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে কাজ করছি।’ঢাকা থেকে বগুড়াগামী যাত্রী কবিরুল ইসলাম চন্দ্রা ত্রিমোড়ে যানজটে আটকে ছিলেন। এ সময় তিনি বলেন, ‘ঢাকা থেকে আসতে খুব একটা সমস্যা হয়নি। কিন্তু চন্দ্রায় এসে গাড়ি বারবার থামছে। একটু এগোয়, আবার দাঁড়িয়ে যায়। এতে সময় অনেক বেশি লাগছে।’
স্থানীয় কারখানার শ্রমিক মোক্তার হোসেন বলেন, প্রতি বছরই এই স্থানে একই অবস্থা দেখতে হয়। চন্দ্রা পার হতে না পারলে ঈদযাত্রা স্বস্তি না পেতে। বাসচালকদেরও একই ধরনের অভিজ্ঞতা হয়। সাথী পরিবহনের চালক রহিম বাদশা বলেন, ঢাকা থেকে চন্দ্রা পর্যন্ত স্বাভাবিক সময়ে দুই ঘণ্টা লাগে। আজও ঢাকার অংশটা মোটামুটি ঠিক ছিল, কিন্তু এখানে এসে গতি নেই। সামনে জায়গা সংকুচিত হয়ে যাওয়ায় গাড়ি আটকে যাচ্ছে।
একটি পণ্যবাহী ট্রাকের চালক মো. আসলাম বলেন, উড়ালসড়ক দিয়ে দ্রুত আসা গাড়িগুলো হঠাৎ সরু রাস্তায় ঢুকে পড়ে। তখন সবাই ব্রেক করে। এতে পেছনে চাপ তৈরি হয়। একটু পরপরই থামতে হচ্ছে।স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চন্দ্রা ত্রিমোড় মূলত তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের মিলনস্থল হওয়ায় এখানে সব সময়ই যানবাহনের চাপ থাকে। একদিকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক দিয়ে উত্তরবঙ্গমুখী গাড়ি চলাচল করে, অন্যদিকে চন্দ্রা-নবীনগর সড়ক দিয়ে ঢাকা ও সাভারের দিকে যানবাহন যায়। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে স্থানীয় সড়কগুলো। ফলে তিন দিক থেকে একসঙ্গে যানবাহন এসে মিলিত হওয়ায় প্রায়ই যানজটের সৃষ্টি হয়।
চন্দ্রা ত্রিমোড়ের স্থানীয় লোকজনের মতে, মূল সমস্যা হচ্ছে তিনটি পুরাতন গুরুত্বপূর্ণ সড়কের সংযোগস্থল হওয়া। উড়ালসড়কের পর একটি প্রাচীর সড়ক অপ্রত্যাশিতভাবে সংকুচিত হয়ে যায় এবং যানবাহনের অনির্দিষ্ট চাপে পড়ে। এর সাথে ঈদের সময় অতিরিক্ত যাত্রী দাবি যুক্ত হয়ে পরিস্থিতি দ্রুতই জটিল হয়ে যায়। এ ছাড়া, মহাসড়কের পাশে যেখানে-সেখানে যানবাহন ঠিকানা দেওয়া যায়, স্থানীয় গাড়ীর চলাচলের অনির্দিষ্টতা এবং অধীরগতির একটি অন্য কারণ হিসাবে দেখা গেছে। সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য উড়ালসড়কের পশ্চিমাঞ্চলে সড়ক উন্নত করা, নির্ধারিত বাসস্ট্যান্ড স্থাপন এবং অবৈধ পার্কিং নিষেধ এমনকি কার্যকর উপায় গ্রহণ করা প্রয়োজন।




