আশরাফুলের দাফন সম্পন্ন, গ্রামজুড়ে শোকের ছায়া

আশরাফুল হকের জানাজা বদরগঞ্জ উপজেলার রংপুরে সকালে সম্পন্ন হয়েছে। তাঁর দাফন শেষে স্থানীয় কবরস্থানে করা হয়েছে।

বদরগঞ্জের আশরাফুল হকের নিঃশ্বাসে প্রচুর শোক নিয়ে এসেছে গ্রামের মানুষরা। শনিবার ভোরে হাজারো মানুষ গোপালপুর ইউনিয়নের নয়পাড়া গ্রামে এসে আশরাফুলের জানাজা ও দাফনে উপস্থিত হলেন। সকালে জানাজা কর্মক্ষেত্র সমাপ্ত হয়। স্বজনদের কান্না আর শোকে ভেঙে পড়ে সম্পূর্ণ অবস্থায় স্বজনগণ। গতকাল রাতে আশরাফুলের মরদেহ গ্রামে পৌঁছে। সকালে জানাজা সম্পন্ন হলে মুসল্লিরা ছুটে আসেন। আর আশরাফুলকে শেষ সাক্ষাৎকার দেওয়ার মুহূর্তে, মায়ের আহাজারি এবং সব স্বজনদের কান্না নিয়ে পূর্ণ হয়ে গেল তার দাফনে।

স্থানীয় লোকজনদের জানিয়ে দেওয়া হল, হত্যাকাণ্ডের পরেই আশরাফুলের পরিবার চমকিয়ে পড়েছে। পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করছেন—বাল্যবন্ধু জরেজ আশরাফুলকে নৃশংসভাবে হত্যা করেছেন। এই ঘটনায় নিহত আশরাফুলের বোন আনজিনা বেগম শুক্রবার সকালে ঢাকার শাহবাগ থানায় হত্যা মামলা করেছেন। মামলায় আশরাফুলের বন্ধু জরেজুল ইসলাম জরেজকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। এই ঘটনায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে জরেজুল ইসলাম এবং শামীমা নামের এক নারীকে।আহাজারি করে স্পষ্ট হয়েছে যে, আশরাফুল হকের স্ত্রী লাকী বেগম জরেজকে অভিযোগ করেছেন, “নিজের ভাই মনে করে জরেজকে। জাপান যাওয়ার ১০ লাখ টাকা চায়, সেই টাকাও আমরা দিতে চাই। আরও টাকা লাগলে নিতে পার। আমার সমস্ত সম্পত্তি নিয়ে স্বামীটাকে বাঁচিয়ে রাখতে চাই। স্বামীটার জন্য জ্ঞান কিছু কাড়ি নেওয়া। আমি তাকে (জরেজকে) ফাঁসি চাই। যারা আমার স্বামীর দিকে চাকরা চালাচ্ছে, সবার ফাঁসি চাই।”বাবা আবদুর রশিদের কান্না নিয়ে বলা হয়েছে, “আমি হাসপাতালে ছিলাম। জরেজ খুব সুন্দর ভাবে ছেলেটাকে নিয়ে ঢাকা যাচ্ছে। বাবা যদি তাকে গুঞ্জন করার জন্য খুঁজে বের করতে চাই, তাহলে নিজের জীবন হারাতাম না। এবার ছোট নাতি-নাতনি, আমাদের কে দেখবে?”

মা এছরা খাতুন মূর্ছা হয়েছেন। পরিবারের সদস্যরা জ্ঞান প্রদান করে বিলাপ করছেন, ‘আমার বেটা কাউকে ক্ষতি করেনি। তাহলে তারা কেন এমন করেছিল? কেন আমার বেটাকে ক্ষতি করেছিল?’ পরিবারে এবং স্থানীয় মানুষের সাথে কথা বলে জানা যায় যে, মা-বাবার একমাত্র ছেলে হলেন আশরাফুল হক। তাঁর চারটি বোন আছে। ভাই-বোনের মধ্যে আশরাফুল তৃতীয়। তাঁর বাবা আব্দুর রশিদ ছিলেন একজন ছোট কাঁচামাল ব্যবসায়ী। ছোট থাকতেই বাবার সাথে জড়িয়ে পড়েন আশরাফুল কাঁচামাল ব্যবসার সাথে। তিনি কাঁচামাল আমদানিকারক ছিলেন। বিভিন্ন দেশ থেকে কাঁচামাল আনেন ঢাকা-চট্টগ্রাম সহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিতরণ করতেন। তাঁর পরিবারে ১৩ বছরের সপ্তম শ্রেণিতে পড়া মেয়ে এবং ৭ বছরের একটি ছেলে আছে।

2 thoughts on “আশরাফুলের দাফন সম্পন্ন, গ্রামজুড়ে শোকের ছায়া”

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top