আমার ভোট যেন গায়েবি পন্থায় না হয়ে যায়’

গাইবান্ধা সরকারী কলেজ ক্যাম্পাসের কড়ইতলায় বসে আড্ডা দিচ্ছিল কয়েকজন শিক্ষার্থী। চার দিন পর জাতীয় নির্বাচন। তাঁরা সবাই এবারই প্রথম ভোট দেবেন। অন্য সময় আড্ডার বিষয় অন্য কিছু হলেও গত বৃহস্পতিবার ছিল নির্বাচন নিয়ে। শিক্ষার্থীদের আড্ডায় যোগ দিয়ে ভোট নিয়ে তাঁদের ভাবনা জানার সুযোগ হয়। সবারই চাওয়া নিরাপদ ভোটকেন্দ্র। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে তাঁরা নিজেদের ভোট নিজেরা দিতে চান। গাইবান্ধা সরকারী কলেজের গণিত বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী কাশফিহা খনম বলেন, ‘এ বছর প্রথম ভোট দেব। তাই আনন্দটাই আলাদা। প্রথমবার কেন্দ্রে যাব, এ জন্য নতুন জামা কিনেছি। এবার বড় একটি দল নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না। তবে ভোটের পরিবেশ এখনো ভালো মনে হচ্ছে। ভোটের দিন পরিবেশ এমন হলে আমি ও আমার বন্ধুরা অবশ্যই ভোট দিতে যাব।’ গাইবান্ধা সরকারী কলেজের দর্শন বিভাগের শিক্ষার্থী মৃত্তিকা বলেন, ‘নতুন ভোটার হিসেবে আমি চাই, একটি নিরাপদ ভোটকেন্দ্র। আমার নিজের ভোট যদি গায়েবি পন্থায় আগেই না হয়ে যায়, তাহলে নিজের হাতে ভোট দিয়ে ভোটার হওয়াটা সার্থক করতে চাই।’ আড্ডায় অংশ নেওয়া অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী শিথি রহমান বলেন, ‘প্রথম ভোটার হিসেবে একটি শান্তিপূর্ণ ভোটকেন্দ্র দেখতে চাই। আমি যখন ভোট দিতে যাব, ওখানে যেন দলীয় রাজত্ব না চলে। আমি যেন নিরাপদভাবে কোনো ভয় ছাড়া ভোটটা দিতে পারি। এটাই হচ্ছে আমার সবচেয়ে বড় চাওয়া।’ ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনে প্রশাসনের প্রস্তুতিও প্রায় সম্পন্ন। গাইবান্ধার পাঁচটি সংসদীয় আসনে বিএনপি, জামায়াত, জাতীয় পার্টি ও স্বতন্ত্র হিসেবে এবারের নির্বাচনে গাইবান্ধার মোট পাঁচটি আসনে ৪০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। প্রচারণার শেষ মুহূর্তে প্রতিটি দলের প্রার্থীরা ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ব্যস্ত সময় পার করছেন। তাঁরা নতুন ভোটার টানতে তরুণ-তরুণীদের চাহিদার কথা ভেবে বিভিন্ন ইশতেহার প্রকাশ করছেন। এবারের নির্বাচন ও গণভোট নিয়ে নতুন ভোটারদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে। তবে তাঁরা নিরাপদ ভোটকেন্দ্র চান। তাঁরা বলছেন, ১২ ফেব্রুয়ারি পরিবেশ ভালো থাকলে কেন্দ্রে উপস্থিতি বাড়বে। অনেকে সকালের পরিস্থিতি দেখে ভোটকেন্দ্রে যাবেন। গাইবান্ধা সরকারী কলেজের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী শাহ নেওয়াজ বলেন, ‘ভোটাধিকার নাগরিকের অধিকার। যাঁরা দেশের দৃশ্যমান ভালো কাজ করেছেন, তাঁদের নেতৃত্ব দেওয়ার সহযোগিতা করার জন্যই ভোট দিতে যাব।’ তিনি বলেন, ‘এবারে নির্বাচনে এমন নেতৃত্ব আসুক, যাতে আর কোনো ফ্যাসিবাদের জন্ম না হয়।’ রসায়ন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ও সাদুল্লাপুর উপজেলার ইদিলপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের নতুন ভোটার নিফাউল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘প্রথমবার ভোটার হয়েছি। একধরনের উচ্ছ্বাস তো কাজ করছেই। গণভোটের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদ রুখে দেওয়ার পাশাপাশি যিনি উন্নয়ন করতে পারবেন, যুবশক্তির কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্প, ক্ষুদ্র ব্যবসা, কৃষি খামার গড়তে উৎসাহ দেবেন, তাঁকে ভোট দিব।’

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top