প্রকাশ: ২৮ মার্চ ২০২৬
মুক্তিযোদ্ধা কোটা পেলে সরকারি চাকরির জন্য আবেদনকারীদের মুক্তিযোদ্ধা সনদ ও তথ্যের যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে। মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা অন্যদেরের নাম প্রকাশ না করে জানান, অবশ্য অবৈধ বা ভুল তথ্য যাচাই করে প্রতি ১০০ জনের মুক্তিযোদ্ধা তথ্যের ভুল বা অমিল ভুল আছে বলে জানা গেছে।
যারা মুক্তিযোদ্ধার ভুয়া সনদ পেয়ে সরকারি চাকরি করছেন, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার। ১৪ আগস্ট সরকারের মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব নেন ফারুক-ই-আজম। পরদিনেই তিনি মুক্তিযোদ্ধার ভুয়া সনদের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেন। যদিও যাচাই-বাছাই শেষ করতে পারেনি অন্তর্বর্তী সরকার.
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ইসরাত চৌধুরী ১৪ মার্চে প্রথম আলোকে বলেন, যেসব মুক্তিযোদ্ধা কোটায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয় এবং বিভাগে চাকরি করছেন, তাদের সংক্ষিপ্ত তথ্য দেওয়া হয়েছিল যা গরমিল এবং ভুলভ্রান্তির সৃষ্টি করেছিল। এই কারণে তাদের কাছ থেকে আবার তথ্য যাচাই করা হয়েছে। এর ফলে সময় বেশি লাগছে। সে কারণে তাঁরা বলেছেন, “তালিকা যাচাই-নিরীক্ষণ শেষ। এখন পরীক্ষণের কাজ চলছে। তবে মন্ত্রণালয়ে জনবল কম। এই কারণে তালিকা পূর্ণ করতে সময় লাগছে।”
নিজেদের সহকর্মীদের জীবনযাপনের চেষ্টা করা কিনা, এর উত্তরে সচিব বলেন, ‘এটা একেবারে ভুল। কাজের চাপ থাকায় তালিকা করতে সময় লাগছে।’বিবিসি বাংলার একটি রিপোর্ট অনুযায়ী, বাংলাদেশের সরকারি চাকরিতে ১৯৭২ সাল থেকেই মুক্তিযোদ্ধা কোটা ছিল। ১৯৯৭ সালে আওয়ামী লীগ সরকার মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানদের নির্ধারিত কোটার ভেতরে অন্তর্ভুক্ত করে। ২০১১ সালে মুক্তিযোদ্ধার নাতি-নাতনিদেরও ওই কোটাসুবিধার আওতায় আনা হয়। সর্বশেষ মুক্তিযোদ্ধা কোটার পরিমাণ ছিল ৩০ শতাংশ। মুক্তিযোদ্ধা কোটাসহ বিভিন্ন কোটা বাতিল হয় জুলাই আন্দোলনের ফলে।
প্রাচীন সচিব ও বাংলাদেশ লোকপ্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের প্রাচীন রেক্টর এ কে এম আবদুল আউয়াল মজুমদার প্রথম আলোতে বলেন, ভুয়া সনদ ব্যবহার করে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় চাকরি করছেন যারা, কোনো রাজনৈতিক সরকার তাদের নাম প্রকাশ করতে স্পষ্টতা অবহেলানা করেছিল। তিনি আরো কাছাকাছি বলেন, যখনই সরকার ভুয়া সনদে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় চাকরিজীবীদের নাম প্রকাশ করবে, তখনই তদন্ত আরম্ভ হবে। ফলে এ তালিকা হলো যেনো কখনো আলোর মুখ দেখবে না।আবদুল আউয়াল মজুমদার আরো উল্টো কুলুকে বলেন, গোঁজামিল দিয়ে আর কত দিন দেশ চলবে? স্পষ্টতার জন্য এ তালিকা প্রকাশ করা উচিত।




