ইরান আবার উত্তাল। তেহরান থেকে মাশহাদ, ইসফাহান থেকে কুর্দিস্তান—প্রতিবাদের ঢেউ থামছে না। এই বিক্ষোভ হঠাৎ তৈরি হয়নি, আবার কোনো একক ঘটনার প্রতিক্রিয়াও নয়। এটা দীর্ঘদিনের জমে থাকা ক্ষোভের বিস্ফোরণ। প্রশ্নটা এখন সরাসরি—আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির শাসন কি এবার সত্যিকারের চ্যালেঞ্জের মুখে?
এখানে মূল বিষয়টা বোঝা জরুরি। ইরানের সমস্যা শুধু রাজনৈতিক নয়, গভীরভাবে অর্থনৈতিক ও সামাজিক। মূল্যস্ফীতি সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে। কর্মসংস্থান সংকুচিত। নিষেধাজ্ঞার চাপে মধ্যবিত্ত শ্রেণি প্রায় বিলীন। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে তরুণ প্রজন্মের হতাশা, যারা রাষ্ট্রের কড়া সামাজিক নিয়ন্ত্রণকে আর মেনে নিতে চাইছে না।
প্রতিবাদের ভাষাও বদলেছে। আগে দাবি ছিল সংস্কারের, এখন স্লোগানে শোনা যাচ্ছে পুরো ব্যবস্থার বিরুদ্ধে ক্ষোভ। এটা শাসকদের জন্য বড় সংকেত। কারণ এই ক্ষোভ শুধু শহুরে তরুণদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; শ্রমিক, শিক্ষক, এমনকি গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর মধ্যেও ছড়িয়ে পড়েছে।
তবু এখানেই গল্প শেষ নয়। খামেনি শাসনের শক্তি কোথায়, সেটাও স্পষ্ট। রাষ্ট্রের নিরাপত্তা কাঠামো এখনও অটুট। রেভল্যুশনারি গার্ড, বেসিজ মিলিশিয়া এবং গোয়েন্দা নেটওয়ার্ক একসঙ্গে কাজ করছে। ইতিহাস বলছে, ইরান অতীতেও এমন বিক্ষোভ দমন করেছে কঠোর হাতে।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো বিকল্প নেতৃত্বের অভাব। প্রতিবাদকারীদের মধ্যে ঐক্য থাকলেও, সুসংগঠিত রাজনৈতিক বিকল্প এখনো দৃশ্যমান নয়। এই শূন্যতাই শাসকদের সবচেয়ে বড় ঢাল।
তাহলে কি খামেনির শাসন টিকবে? সংক্ষিপ্ত উত্তর—স্বল্পমেয়াদে টিকে যাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে চাপ বাড়ছে, ভেতরের ফাটল স্পষ্ট হচ্ছে। সমাজ বদলাচ্ছে, প্রত্যাশা বদলাচ্ছে। আর শাসন যদি সেই বাস্তবতা বুঝতে ব্যর্থ হয়, তাহলে আজকের উত্তাল পরিস্থিতি ভবিষ্যতে আরও বড় রূপ নিতে পারে।
শেষ কথা এখানেই। ইরান এখন এক মোড়ে দাঁড়িয়ে। এই মোড় থেকে কোন পথে যাবে দেশটি—তা নির্ভর করবে শাসকদের সিদ্ধান্ত আর জনগণের ধৈর্যের ওপর। কিন্তু এক বিষয় পরিষ্কার: আগের মতো স্থির ও নিশ্চিন্ত ইরান আর নেই।



