ইরানের রাজধানী তেহরানসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ব্যাপক সরকারবিরোধী আন্দোলন ও সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে। বিক্ষোভকারীরা তেহরানের একটি মসজিদে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পূর্ববর্তী সময়ের রাজতান্ত্রিক পতাকা উড়িয়ে তাদের ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
তেহরানের সাদা’ত এক ব্যক্তি নিউইয়র্ক টাইমসকে জানিয়েছে, তিনি নিজেও রাস্তায় নেমেছিলেন এবং বিক্ষোভকারীদের মসজিদে অগ্নিসংযোগ করতে দেখেছেন। গত বৃহস্পতিবারের পর শুক্রবার রাতেও এই অস্থিরতা মাসহাদ, তাবরিজ, উরুমিয়াহ, ইসফাহান, কারাজ এবং ইয়জদ শহরের মতো গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিবিসি ফার্সির প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা গেছে, বিক্ষোভকারীরা ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যু কামনা করে স্লোগান দিচ্ছেন এবং শাহ আমলের রাজতন্ত্রের পক্ষে জয়ধ্বনি করছেন। পরিস্থিতির ভয়াবহতা আঁচ করে দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন থেকে সাধারণ মানুষের প্রতি বিক্ষোভে অংশ না নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
তেহরানের একজন প্রকৌশলী আমির রেজার বর্ণনা অনুযায়ী, বিক্ষোভ দমনে নিরাপত্তা বাহিনী গুলি ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করছে। তিনি জানান, এক পর্যায়ে সিভিল পোশাকে থাকা মিলিশিয়া ও পুলিশ সদস্যরা সরাসরি গুলি চালানো শুরু করলে মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।
গত ২৮ ডিসেম্বর তেহরানের গ্র্যান্ড বাজারের ব্যবসায়ীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মাধ্যমে এই অস্থিরতা শুরু হলেও তা দ্রুতই সহিংসতায় রূপ নেয়। টাইম ম্যাগাজিনের একটি প্রতিবেদন দাবি করেছে যে, শুধুমাত্র গত বৃহস্পতিবারেই তেহরানে ২০০ জনেরও বেশি বিক্ষোভকারীকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। ১৩ দিন ধরে চলা এই আন্দোলনে প্রাণহানির সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে।
ইরান সরকার এই সহিংসতার জন্য সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে নালিশ জানিয়েছে। তেহরানের দাবি, ওয়াশিংটনের প্ররোচণাতেই একটি শান্তিপূর্ণ আন্দোলন এখন রক্তাক্ত রূপ ধারণ করেছে। এর বিপরীতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন করে হুমকি দিয়েছেন, ইরান সরকার যদি সাধারণ মানুষকে হত্যা করা বন্ধ না করে, তবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে বড় ধরনের সামরিক হামলা চালাবে।
ট্রাম্পের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরান সরকার চরম বিপদের মধ্যে রয়েছে। একদিকে অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহ আর অন্যদিকে আন্তর্জাতিক চাপের মুখে ইরানের ভবিষ্যৎ এখন অত্যন্ত অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
সূত্র: নিউইয়র্ক টাইমস



