প্রকাশ: ০৭ এপ্রিল ২০২৬
গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট জানিয়েছে যে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পাদিত বাণিজ্যচুক্তি ‘রেসিপ্রোক্যাল ট্রেড অ্যাগ্রিমেন্ট’ বাতিল করা উচিত এবং এটি বৈষম্যমূলক এবং জাতীয় স্বার্থবিরোধী চুক্তি হিসেবে মনে করা হয়েছে। তারা খলিলুর রহমানকে এই চুক্তির ‘মূল হোতা’ হিসেবে উল্লেখ করেছে এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী পদ থেকে তাকে অবিলম্বে অপসারণের দাবি করেছে। তাদের দাবি যে বাণিজ্যচুক্তির সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিচার করা উচিত সেও অবিচারিত ছিল।
জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সোমবার এক সমাবেশ এবং বিক্ষোভ মিছিলে এই দাবি জানানো হয়েছে গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের নেতাদের। যুক্তরাষ্ট্র সঙ্গে সম্পাদিত এই চুক্তিকে দেশবিরোধী উল্লেখ করে এ বিষয়ে বর্তমান সরকারের অবস্থান পরিষ্কার করার দাবি করেছেন তাঁরা।
সমাবেশে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ বলেন, পারস্পরিক বাণিজ্য ক্তিতে দুই পক্ষের মধ্যে সমতা নিশ্চিত হয়। ২০২৬ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি সই করা এই চুক্তি সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রকৃতির হয়েছে, যেখানে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তিন দিন আগে অতি গোপনে তড়িঘড়ি করে এই চুক্তি সম্পাদিত হয়েছে। চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের ৬ হাজার ৭১০টি পণ্যে শুল্ক ছাড় দিতে হবে বাংলাদেশকে, কিন্তু বাংলাদেশ শুল্কসুবিধা পাবে মাত্র ১ হাজার ৬৩৮টি পণ্যে। এর ফলে বাংলাদেশ বছরে ১ হাজার ৩২৭ কোটি টাকার আমদানি-শুল্ক রাজস্ব হারাবে। সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) বলেছে, বিনিময়ে বাংলাদেশকে যে ‘সুবিধা’ দেওয়া হয়েছে, তা নেহাতই নামমাত্র। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের পণ্যের ওপর পাল্টা শুল্ক (রেসিপ্রোক্যাল ট্যারিফ) ৩৭ শতাংশ থেকে কমিয়ে মাত্র ১৯ শতাংশ করা হয়েছে।
বজলুর রশীদ ফিরোজ জানান, এই চুক্তি করলে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক বাজার থেকে সস্তা পণ্য কেনার স্বাধীনতা হারাবে। যুক্তরাষ্ট্রের পণ্য কিনতে উদ্বিগ্ন হতে হবে এই চুক্তির মাধ্যমে। তারা গম, তুলা, রাসায়নিক ও শিল্প পণ্য, এলএনজি, প্রতিরক্ষাসামগ্রী ইত্যাদি অতিরিক্ত মূল্যে কিনতে হবে যুক্তরাষ্ট্র থেকে। উল্লেখ করা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বোয়িং কোম্পানির ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তির ব্যাপারেও। চুক্তির মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩৫ থেকে ৪৫ হাজার কোটি টাকা। এই চুক্তির অর্থ বাংলাদেশকে ১০ থেকে ২০ বছর ধরে প্রতি বছর ১ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার কোটি টাকা কিস্তি দিতে হবে, যা জনগণের ওপর অন্যায় আর্থিক দায়িত্ব প্রয়োজন করবে। উন্মুক্ত দরপত্র ছাড়া এভাবে হাজার হাজার কোটি টাকার রাষ্ট্রীয় চুক্তি করা আইনের সরাসরি লঙ্ঘন।
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সভাপতি সাজ্জাদ জহির একটি সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন। সেখানে উপস্থিত ছিলেন বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল কবীর জাহিদ, বাসদ (মাহবুব) সাধারণ সম্পাদক হারুনার রশীদ ভূঁইয়া, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু, বাসদ (মার্ক্সবাদী) সমন্বয়ক মাসুদ রানা, সিপিবির সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ ক্কাফী, বাসদের সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য নিখিল দাস, বাংলাদেশ জাসদের কেন্দ্রীয় নেতা রুকনুজ্জামান রোকন প্রমুখ।



