সমালোচনার মুখে বিদ্যুৎ ফিরল নালিতাবাড়ী মডেল মসজিদে

শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলা মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের বিদ্যুৎ বিল বকেয়া দাঁড়িয়েছে প্রায় ৮ লাখ ২৮ হাজার টাকা। টানা ৩৫ মাস বিল পরিশোধ না করায় গত ৬ জানুয়ারি বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিউবো)। এতে রমজান মাসে অন্ধকারে মোমবাতি জ্বালিয়ে তারাবি নামাজ আদায় করতে বাধ্য হন মুসল্লিরা।

বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় সমালোচনার সৃষ্টি হয়। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজয়ানা আফরিনের নির্দেশে গত ২০ ফেব্রুয়ারি রাতে পুনরায় বিদ্যুৎ সংযোগ দেয় বিউবো।

জানা যায়, ২০২৩ সালের ১৬ জানুয়ারি মসজিদটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনের প্রায় তিন বছর পার হলেও বিদ্যুৎ বিল পরিশোধে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেয়নি মসজিদ পরিচালনা কমিটি বা ইসলামিক ফাউন্ডেশন। নিয়মিত বিল বকেয়া বাড়তে থাকায় একপর্যায়ে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়।

নালিতাবাড়ী উপজেলা ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ফিল্ড সুপারভাইজার মো. শহিদুল্লাহ বলেন, বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়েছে এ বিষয়ে আমি সুনির্দিষ্টভাবে অবগত নই। নালিতাবাড়ীর আরই মোমিন সাহেব আমাকে একটি মেসেজে জানিয়েছেন সংযোগ দেওয়া হয়েছে। এর বেশি কিছু জানি না বলেন তিনি।

বিদ্যুৎ সংযোগ বিষয়ে নালিতাবাড়ী পিডিবির আবাসিক প্রকৌশলী আব্দুল মতিন জানান, ২০ ফেব্রুয়ারি রাতেই প্রিপেইড মিটারের মাধ্যমে সংযোগ দেওয়া হয়েছে। সংযোগটি আগের নামেই ডেপুটি ডিরেক্টর উপজেলা মডেল মসজিদ, নালিতাবাড়ী নামে চালু করা হয়েছে। তিনি বলেন, আপাতত প্রিপেইড মিটারে সংযোগ দেওয়া হয়েছে। বকেয়া বিলের বিষয়ে পরবর্তীতে ইউএনও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবেন।

নালিতাবাড়ী উপজেলা মডেল মসজিদের সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজয়ানা আফরিন বলেন, মসজিদের বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়েছে। তবে বকেয়া বিলের বিষয়ে আলোচনা চলছে। জেলা প্রশাসককে জানিয়েছি। পরবর্তীতে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শেরপুর ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপপরিচালক এস এম মোহাই মোনুল ইসলাম বলেন, বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার বিষয়ে আমাকে কিছু জানানো হয়নি। আমার সুপারভাইজার বলেছেন, এলাকাবাসীর অনুরোধে সংযোগ দেওয়া হয়েছে, তবে আমি নিশ্চিত নই।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের কোথাও এমনভাবে মসজিদের সংযোগ কাটা হয়েছে বলে আমার জানা নেই। বিভিন্ন জায়গায় বেশি বকেয়া থাকলেও সংযোগ কাটা হয়নি। সংযোগ কাটার আগে আমি শেরপুর পিডিবির নির্বাহী প্রকৌশলীর সঙ্গে কথা বলেছিলাম, কিছু টাকা দেওয়ার কথাও বলেছিলাম, যাতে লাইন না কাটা হয়। কিন্তু আমাদের কথা শোনা হয়নি।

এদিকে বিদ্যুৎ সংযোগ পুনঃস্থাপনের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। ‘হাবিবুল্লাহ পাহাড়ী’ নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে দেওয়া এক পোস্টে দাবি করা হয়, প্রিপেইড মিটার স্থাপনের কৃতিত্ব কেউ কেউ নিজেদের বলে প্রচার করছেন। পোস্টে বলা হয়, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের নালিতাবাড়ী উপজেলার সুপারভাইজার দাবি করেছেন, ঘটনা ভাইরাল হওয়ার পর দ্রুত উদ্যোগ নিয়ে প্রিপেইড মিটার স্থাপন করা হয়েছে। তবে ওই পোস্টদাতা দাবি করেন, এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে তিনজনের স্বাক্ষরযুক্ত আবেদনপত্রের ভিত্তিতেই মিটার স্থাপন করা হয়েছে এবং তিনি নিজে মিটার স্থাপনের সময় উপস্থিত ছিলেন।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, ১ হাজার ৮০০ টাকা রিচার্জ করে মিটার চালু করা হয়। তিনি আরও উল্লেখ করেন, প্রিপেইড মিটার স্থাপন স্থায়ী সমাধান নয়, বকেয়া সমস্যার স্থায়ী সমাধান প্রয়োজন। পাশাপাশি ইউএনও ও প্রশাসনের কাছে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের দায়িত্বপ্রাপ্তদের জবাবদিহির দাবি জানান।

বকেয়া বিলের দায় ও পরিশোধ প্রক্রিয়া নিয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর বক্তব্যে ভিন্নতা থাকায় বিষয়টি নিয়ে জনমনে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। এখন বকেয়া ৮ লাখ ২৮ হাজার টাকা পরিশোধ ও স্থায়ী সমাধান কীভাবে হবে সেদিকেই তাকিয়ে স্থানীয় মুসল্লি ও সচেতন মহল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top