কুবি শিক্ষার্থীর উদ্যোগে ১০ টাকায় ইফতার

রমজানের বিকেল। সূর্য পশ্চিম আকাশে হেলে পড়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে হালকা বাতাসের সঙ্গে ভেসে আসছে ইফতারির গন্ধ। চারদিকে যখন ইফতারির প্রস্তুতি তুঙ্গে, ঠিক তখনই এক কোণে দেখা যায় দীর্ঘ সারি। কেউ বন্ধুদের সঙ্গে দাঁড়িয়ে গল্প করছেন, কেউ মোবাইল ফোনে সময় দেখছেন বারবার। কারও মুখে সারাদিনের ক্লান্তি, কারও চোখে স্বস্তির ঝিলিক। কাজী মিরাজের ১০ টাকার ইফতারির জন্য অপেক্ষা করছেন তারা।

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বাজারে মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয়ের মানুষের নাভিশ্বাস ওঠা যেন নিত্যদিনের বাস্তবতা। এই দুর্মূল্যের বাজারে ১০ টাকায় ইফতার অনেকটা স্বপ্নের মতো। তবে বাস্তবেই ১০ টাকায় এক দিনের ইফতারি মিলছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি)।
ইফতারির প্যাকেটে রয়েছে অল্প কিছু ছোলা, দুটি পেঁয়াজু, একটি বেগুনি, একটি আলুর চপ, একটি জিলাপি, একটি কলা, খেজুর ও কিছু মুড়ি। যা সাধারণত বাজারে কিনতে গেলে গুনতে হয় ৫০ থেকে ৬০ টাকা। ৫০-৬০ টাকার ইফতার ১০ টাকায় পাওয়াই যেন অনেকের জন্য আশীর্বাদ।

তৃতীবারের মতো ১০ টাকায় ইফতারসামগ্রী বিক্রির উদ্যোগ নিয়েছেন কুবির নৃবিজ্ঞান বিভাগের ১৫তম ব্যাচের শিক্ষার্থী কাজী মিরাজ। নিজ উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকের কাছে ১০ টাকায় এক প্যাকেট ইফতারি বিক্রি করেন তিনি। অন্যদের সহযোগিতা ও অনুদান পেলে রমজানে যতদিন ক্যাম্পাস খোলা থাকবে, ততদিন এই আয়োজন করার ইচ্ছা তাঁর।
শিক্ষার্থীরা জানান, যেখানে বাইরের দোকানগুলোতে ১০ টাকার ছোলা পাওয়াই দুষ্কর সেখানে মিরাজের ‘১০ টাকার ইফতার’ উদ্যোগ তাদের জন্য স্বস্তির। তারা জানান, ৮০ থেকে ১০০ প্যাকেট ইফতারি তৈরি করলেও বিক্রি শুরুর ১৫-২০ মিনিটের মধ্যে সব শেষ হয়ে যায়। ফলে অনেক শিক্ষার্থী ও আশপাশের মানুষ এসে ইফতার না পেয়ে চলে যান।
কাজী মিরাজ বলেন, এই ইফতার কার্যক্রমটি তাঁর টিউশন, কোচিংয়ের জমানো অর্থ থেকে করা। প্রতিটি প্যাকেটে ৫০ থেকে ৬০ টাকার সামগ্রী থাকে, যা তিনি ১০ টাকায় বিক্রি করেন শিক্ষার্থীদের মাঝে। শিক্ষার্থীরা যাতে কম টাকায় ইফতার করতে পারেন সেজন্যই এই উদ্যোগ। তিনি বলেন, ‘সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত উদ্যোগে করছি। বিগত দুই বছর করেছি এবং যতদিন ক্যাম্পাসে আছি করার ইচ্ছে আছে।’

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top