টর্চলাইটের ঝলকানিতে প্রাণে বেঁচে গেলেন এক অটোরিকশা চালক। ছিনতাই করে হত্যার উদ্দেশ্যে নির্জন স্থানে নিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয় এক ব্যক্তির টর্চের আলো দেখে ভড়কে যায় ছিনতাইকারীরা। চালকের সাহসিকতা ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় এক ছিনতাইকারীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
শনিবার দিবাগত রাতে দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার রামেশ্বরপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ সময় সঙ্গে থাকা আরও এক ছিনতাইকারী পালিয়ে যায়।
গ্রেফতারকৃত মোস্তফা মিয়া ওরফে মোস্তা (৫৬) ঘোড়াঘাট উপজেলার কুন্দারামপুর এলাকার বাসিন্দা। তার বিরুদ্ধে থানায় একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার দিবাগত রাতে যাত্রী সেজে ঘোড়াঘাটের ডুগডুগি বাজার থেকে রাণীগঞ্জ বাজারে যাওয়ার কথা বলে তিনজন ব্যক্তি একটি অটোরিকশায় ওঠে। রামেশ্বরপুরের নির্জন এলাকায় পৌঁছালে তারা চালককে জিম্মি করে অটোরিকশা ছিনতাই করে। তাদের মধ্যে একজন অটোরিকশাটি নিয়ে পালিয়ে যায়।
অন্য দুজন চালককে রাস্তার পাশের ধানক্ষেতে নিয়ে গিয়ে গলায় ও পেটে ছুরি ধরে রাখে। একপর্যায়ে তাদের একজন সড়কের দিকে উঠতেই চালকের সঙ্গে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। এতে ছুরিকাঘাতে চালক আহত হন। পরে দুই ছিনতাইকারী তাকে ধানক্ষেতের ভেতরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে।
ঠিক সেই সময় পাশের জমিতে সেচ দিতে থাকা এক ব্যক্তি টর্চলাইট জ্বালিয়ে এগিয়ে এলে আলোর ঝলকানিতে ভড়কে যায় ছিনতাইকারীরা। একজন পালিয়ে গেলেও চালক সাহসিকতার সঙ্গে আরেকজনকে ধরে ফেলেন। তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে ধৃতকে আটক করে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে। আহত চালককে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তিনি শঙ্কামুক্ত বলে জানা গেছে।
ঘোড়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম জানান, ছিনতাই হওয়া অটোরিকশা উদ্ধারে তাৎক্ষণিক অভিযান চালানো হয়। পুলিশের তৎপরতার খবর পেয়ে ছিনতাইকারীরা অটোরিকশাটি ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। পরে সেটি উদ্ধার করে থানায় নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় চালক বাদী হয়ে তিনজনকে আসামি করে মামলা করেছেন। পলাতক দুই আসামিকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। গ্রেফতার আসামিকে রোববার দিনাজপুরের আদালতে পাঠানো হয়েছে।




