বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক জাহানারা আলমকে যৌন হয়রানির অভিযোগের ঘটনায় আজীবনের জন্য নিষিদ্ধ হয়েছেন সাবেক নির্বাচক এবং ম্যানেজার মঞ্জুরুল ইসলাম। ভবিষ্যতে দেশের ক্রিকেটের কোনো কিছুতে তাকে সম্পৃক্ত করবে না বিসিবি।
রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালনা পর্ষদের এক ভার্চ্যুয়াল সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিসিবির পরিচালনা পর্ষদের সভা শেষে মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন গণমাধ্যমকে জানান, মঞ্জুরুল ইসলামের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হলো, তাকে ক্রিকেটের সব ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে নিষিদ্ধ করা হচ্ছে। তিনি ভবিষ্যতে কোনো দায়িত্বে সম্পৃক্ত হতে পারবেন না।
এর আগে অস্ট্রেলিয়াপ্রবাসী নারী দলের ক্রিকেটার জাহানারা আলম এক সাক্ষাৎকারে মঞ্জুরুলের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ করেন। অভিযোগ তদন্ত করে দেখতে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছিল। জাহানারা চারটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ তুলেছিলেন। একইসঙ্গে তিনি লিখিতভাবে কমিটির কাছে লিখিতভাবে অভিযোগ জমা দেন।
গত ২ ফেব্রুয়ারি কমিটি তাদের প্রতিবেদন বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলের কাছে জমা দেয়। তদন্তে দুটি অভিযোগের সপক্ষে প্রমাণ না পাওয়া গেলেও বাকি দুটি ক্ষেত্রে ‘অশোভন আচরণের’ প্রাথমিক সত্যতা খুঁজে পেয়েছে কমিটি।
তদন্ত শেষে গত ৪ ফেব্রুয়ারি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিসিবি জানায়, স্বাধীন তদন্ত কমিটি মঞ্জুরুলের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের ব্যাপারে প্রাথমিক প্রমাণ পেয়েছে। কমিটি জাহানারার করা চারটি নির্দিষ্ট অভিযোগ পর্যালোচনা করে দুটি অভিযোগের পক্ষে পর্যাপ্ত প্রমাণ না পেলেও, বাকি দুটি অভিযোগের ক্ষেত্রে অসদাচরণের প্রমাণ পেয়েছে বলে জানায় ক্রিকেট বোর্ড।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, মঞ্জুরুল ইসলামের কিছু আচরণ পেশাদার মানদণ্ডের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ এবং কিছু কর্মকাণ্ড সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিকার আওতায় অসদাচরণ ও হয়রানির সংজ্ঞার মধ্যে পড়ে বলেও জানানো হয়েছিল ।
তদন্ত কমিটির করা সুপারিশের ভিত্তিতেই আজ ভার্চ্যুয়াল বোর্ড সভায় মঞ্জুরুলকে ভবিষ্যতে বাংলাদেশের ক্রিকেটে কোনোভাবে সম্পৃক্ত না করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। বর্তমানে এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলে (এসিসি) চাকরি করা মঞ্জুরুল অবশ্য গত বছরের ৩০ জুনের পর থেকেই বিসিবির কোনো দায়িত্বে নেই।



