কানাডার হ্যালিফ্যাক্সে প্রথমবারের মতো উড়ল বাংলাদেশের পতাকা

কানাডার নোভা স্কোশিয়া প্রদেশে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ২০২৬। কানাডার স্থানীয় সময় ২০ ফেব্রুয়ারি প্রদেশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করেন হ্যালিফ্যাক্স সিটি মেয়র অ্যান্ডি ফিলমোর এবং টিম হোষ্টন। এ উপলক্ষে হ্যালিফ্যাক্স সিটি হলে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন মেয়র অ্যান্ডি ফিলমোর।

পতাকা উত্তোলনের এই ঐতিহাসিক মুহূর্তটি স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্য ছিল অত্যন্ত গর্ব ও আবেগঘন। উপস্থিত অতিথিরা এ সময় ভাষা শহীদদের স্মরণ করেন এবং ভাষাগত বৈচিত্র্য সংরক্ষণের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

অন্যদিকে, জন ম্যকনিল এলিমেন্টারি স্কুলে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন করে বাংলাদেশ কমিউনিটি অ্যাসোসিয়েশন। স্কুলের সকালের সমাবেশে সব শিক্ষার্থী একত্রিত হয়ে মাতৃভাষার গুরুত্ব তুলে ধরে একটি তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয় এবং শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ ভাষা সংরক্ষণ ও প্রচারের লক্ষ্যে চিত্রাঙ্কন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করে। নানা ভাষা ও সংস্কৃতির সমন্বয়ে দিনটি ছিল প্রাণবন্ত ও শিক্ষণীয়।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বিডিক্যানস এর চেয়ারপারসন এমডি গোলাম কিবরিয়া তালুকদার। তিনি বলেন, ‘মেয়র, প্রিমিয়ার এবং বিভিন্ন স্কুলের আন্তরিক সমর্থন আমাদের শহরে বৈচিত্র্য, অন্তর্ভুক্তি ও বহুসাংস্কৃতিক সম্প্রদায় উদযাপনের প্রতিশ্রুতি স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে। আজ বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন আমাদের কমিউনিটির জন্য এই আয়োজনকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে। এটি ঐক্য, সম্মান এবং ভাষাগত ঐতিহ্যের স্বীকৃতির এক শক্তিশালী প্রতীক, যা নোভা স্কোশিয়ার সমাজকে সমৃদ্ধ করে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস আমাদের মাতৃভাষা সংরক্ষণ ও প্রসারের গুরুত্ব স্মরণ করিয়ে দেয়, পাশাপাশি সব সংস্কৃতির মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সম্মান বৃদ্ধিতেও উৎসাহিত করে।’

এদিনের কর্মসূচি প্রমাণ করে যে নোভা স্কোশিয়ায় ভাষাগত ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য শুধু স্বীকৃতই নয়, বরং সম্মানের সঙ্গে উদযাপিত হয়। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ২০২৬ উদযাপন বাংলাদেশি কমিউনিটির পাশাপাশি সমগ্র প্রদেশের জন্য এক অনন্য ও স্মরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

আয়োজকরা জানান, একুশের মধ্যে যে বাঙালি জাতীয় চেতনা ও আবেগ আছে, তা প্রচণ্ড শক্তি হিসেবে এখনো বর্তমান। বাঙালি জাতির অস্থিমজ্জায়, ভাষায় ও সংস্কৃতিতে এবং ইতিহাসে যে চেতনা গাঢ় হয়ে মিশে আছে, তাকে ধ্বংস করা, কলুষিত করা সহজ নয়। 

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top