প্রকাশ: ১২ মার্চ ২০২৬
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অনলাইন অ্যাকটিভিস্টদের ভূমিকার প্রশংসা করে সরকারের ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সবাইকে সংগঠিত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী। তিনি বলেছেন, নির্বাচনের সময়ে যে কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে, সামনে তা আরও কঠিন হতে পারে। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে লক্ষ্য করে কাজ করতে হলে আরও বেশি সংগঠিত হওয়ার প্রয়োজন আছে।
বুধবার বিকেলে রাজধানীর একটি হোটেলে অনলাইনভিত্তিক সংগঠন ‘জিয়া সাইবার ফোর্স (জেডসিএফ)’-এর আয়োজনে এক আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পানিসম্পদমন্ত্রী কথা বলেন। জেডসিএফের ১১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী এবং বিএনপির অনলাইন অ্যাক্টিভিস্টদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে বিএনপি ও দলটির সমমনা তিন শতাধিক অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট অংশ নেন।
ডিজিটাল পরিসরে জীবন কাটানোর সময়ে সাইবার ফোর্সের প্রতিবেদন করা এবং জাতীয় মানের সাথে ডিজিটাল সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য অনলাইন অ্যাকটিভিস্টদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। ভবিষ্যতে সংগঠনের কার্যক্রম আরও দক্ষ এবং কার্যকর করার জন্য অনুরোধ করেছেন বক্তা। পানিসম্পদমন্ত্রী অনলাইন মাধ্যমে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন, কারও কার্যক্রম সংগঠিতভাবে না হলে ভবিষ্যতে বিপদে পড়তে হতে পারে। তাই সবাইকে সতর্ক এবং ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। রাষ্ট্রের দায়িত্ব সম্পর্কে কথা বলার সময়ে জাতীয় মানের দায়িত্বও মনে রাখতে হবে। আগামী দিনেও অনলাইন অ্যাক্টিভিস্টরা একই সঙ্গে থাকবেন এবং তাদের সহায়তা অব্যাহত থাকবে।
নির্বাচনে জিয়া সাইবার ফোর্স ছাড়া আরও কিছু সাইবার দল একসঙ্গে কাজ করেছে এমন উল্লেখ করেছেন যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী। এই সকল দলের সমন্বিত প্রচেষ্টার ফলেই নির্বাচনে দৃশ্যমান সাফল্য অর্জন করা সম্ভব হয়েছে। নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সাথে মনে করে তিনি বলেছেন, সরকার সেগুলি ভুলে যাওয়ার চেষ্টা করে না। ভবিষ্যতে এই পরিবারগুলোর পাশে থাকার জন্য বিশেষ প্রচেষ্টা নেওয়া হবে।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেন, গত ১৬ বছরের দীর্ঘ আন্দোলনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েও জিয়া সাইবার ফোর্স গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। বিভিন্ন সময়ে সত্য তথ্য সামনে আনা এবং অপপ্রচারের বিরুদ্ধে তাদের অবস্থান উল্লেখযোগ্য। বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র হিসেবে বিভিন্ন সময়ে জিয়া সাইবার ফোর্সের সহযোগিতা পেয়েছেন বলে জানান তিনি। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে উল্লেখ করে মাহদী আমিন বলেন, সরকারের বিভিন্ন অর্জন ও ইতিবাচক কর্মকাণ্ড জনগণের সামনে তুলে ধরতে জিয়া সাইবার ফোর্স কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
সভাপতির বক্তব্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন বলেন, যেভাবে বিগত নির্বাচনে ‘বট’ বাহিনীর অপপ্রচারের জবাব দিয়েছে জিয়া সাইবার ফোর্স, সেই মতে তিনি এখনও নতুন সরকারের চ্যালেঞ্জের কথা মনে করে এবং অনলাইন অ্যাক্টিভিস্টদের আরও সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
ময়মনসিংহ-৮ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুল্লাহেল মাজেদ, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম (মিল্টন), সময় টেলিভিশনের সিইও জোবায়ের বাবু, জেডসিএফের চেয়ারম্যান নাসিফ ওয়াহিদ, সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরামের সদস্য হুমায়ুন কবির, হাসান মাহবুব, আশিক বিন আওয়াল, কামরুল আহসান নোমানী ও সহসভাপতি সোনিয়া আক্তার স্মৃতি। এ ছাড়া জবানের সম্পাদক রেজাউল করিম রনি, জেডসিএফের ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি মো. দেলোয়ার হোসেন দ্বীপসহ সংগঠনের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।


