বাংলাদেশে নারীর অগ্রগতি বনাম জেন্ডার ‘প্রতি–আঘাত’

প্রকাশ: ১২ মে ২০২৬

বাংলাদেশে নারীদের উন্নয়নের গল্প প্রকাশ পাচ্ছে। গত তিন দশকে নারীদের শিক্ষার অংশগ্রহণ চর্চায় বেড়েছে, পোশাকশিল্পে নারীদের শ্রমশক্তি অর্থনীতির কাঠামো পরিবর্তন আনেছে, মাতৃমৃত্যুর হার কমেছে, অত্যন্তদীর্ঘকালীন ঋণ এবং সামাজিক সুরক্ষা যোগাযোগের মাধ্যমে নারীদের অর্থনৈতিক অংশগ্রহণ প্রসারিত হয়েছে এবং স্থানীয় সরকার থেকে জাতীয় সংসদ পর্যন্ত নারীদের উপস্থিতি দৃশ্যমান হয়েছে। জেন্ডার সূচকেও, বিশেষত শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ায় তুলনামূলকভাবে অগ্রগতি করছে। তবে এই পরিসংখ্যানগত সাফল্যের আলোকে দেখা যাচ্ছে যে এটি একটি জটিল বাস্তবতায় স্পষ্ট হচ্ছে।

নারীদের অধিকার এবং দৃশ্যমানতা বৃদ্ধি করার পাশাপাশি, একটি শক্তিশালী সামাজিক, সাংস্কৃতিক এবং রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া উদ্ভাবিত হচ্ছে, যা ধীরে ধীরে একটি কাঠামোগত প্রতি-আঘাতে (ব্যাকল্যাশ) পায়। বাংলাদেশে, প্রায় ৭৬ শতাংশ নারীরা কোনও না কোনও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, যেগুলির অধিকাংশ প্রকাশ পায় না। এটি নির্যাতনের সামাজিক স্বাভাবিকীকরণে প্রবৃদ্ধি দেয়। নির্যাতনকে অনেক ক্ষেত্রে ‘ব্যক্তিগত’ বা ‘পারিবারিক’ বিষয় হিসাবে দেখা হচ্ছে, যা এই নীরবতাকে আরও শক্তিশালী করে।

ডিজিটাল সমাজে আমাদের নতুন একটি সমস্যা উঠেছে – অনলাইনে হুমকি, হয়রানি, ব্ল্যাকমেইল, বা ছবির অপব্যবহার এবং এসবের প্রভাবে তরুণী ও পেশাজীবী মহিলারা ক্ষতি পাচ্ছে। এতে সামাজিক, সাংস্কৃতিক এবং ডিজিটাল প্রতিরোধে তাঁদের ব্যাক্তিগত অংশগ্রহণ সীমাবদ্ধ হচ্ছে, যদিও তাদের দৃশ্যমানতা এবং অংশগ্রহণ বাড়ছে। এটি সম্পূর্ণরূপে জেন্ডার নির্ভর আক্রমণের একটি প্রকার বাস্তবতা নির্দেশ করে।

বাংলাদেশে নারীদের অগ্রগতি দৃশ্যমান হলেও এর পাশাপাশি একটি কাঠামোগত জেন্ডার প্রতি-আঘাতও তৈরি হয়েছে, যা নারীদের নাগরিক পরিচয়কে প্রশ্নবিদ্ধ করে। অগ্রগতি এবং প্রতি-আঘাত আলাদা সময় নয়; বরং একই প্রক্রিয়ার সমান্তরাল বাস্তবতা; যেখানে নারীদের দৃশ্যমানতা বাড়ার সাথে সাথে নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে, নারীদের অধিকার এখন কেবল উন্নয়নের সূচক নয়, বরং একটি চলমান রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগ্রাম।এই পরিপ্রেক্ষিতে মূল প্রশ্ন হলো, নারীদের সম-অধিকার কি শুধু উন্নয়নগত অগ্রগতি, নাকি এটি একটি অব্যাহত সামাজিক-রাজনৈতিক দর-কষাকষি—যেখানে প্রতিটি অগ্রগতির সঙ্গে নতুন প্রতিরোধও তৈরি হয়। এই বোঝাপড়াই ভবিষ্যৎ জেন্ডার ন্যায্যতার অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই পথ নির্ধারণ করবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top