চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েছেন নাজিফা রহমান খান। তিনি ৪৩তম বিসিএসে প্রশাসন ক্যাডারে নিয়োগ পেয়েছেন। তাঁর চাকরি পাওয়ার অভিজ্ঞতার কথা শুনেছেন আব্দুন নুর নাহিদ
পড়াশোনা : ২০০৯ সালে ব্রাহ্মন্দী মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং ২০১২ সালে নরসিংদী সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি দিয়েছি। দুটোতেই বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ ৫ পেয়ে পাস করেছি। ২০১১ সালে এইচএসসি পরীক্ষা দেওয়ার কথা থাকলেও অসুস্থতার কারণে ২০১২ সালে দিই। ২০১২-১৩ শিক্ষাবর্ষে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা বিষয়ে ভর্তি হই।
এ বিষয়েই স্নাতক ও স্নাতকোত্তর। প্রাথমিকে সাধারণ বৃত্তি আর অষ্টম শ্রেণিতে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়েছি। এ ছাড়া অনার্স পড়াকালীন বিভাগে দ্বিতীয় ও মাস্টার্সে তৃতীয় স্থান অর্জন করেছি। থিসিসে সময় দিতে গিয়ে বিসিএসের প্রস্তুতি নিতে পারিনি।
থিসিস শেষ করে বিসিএসের প্রস্তুতি শুরু করেছি। গণিত, বিজ্ঞান, ইংরেজিতে ভালো ছিলাম। এটাই ছিল শক্তির জায়গা। বেশির ভাগ প্রার্থীর কাছেই এই বিষয়গুলো ভীতির কারণ।
এ ছাড়া ভাষাগত দক্ষতা আমাকে অনেকের চেয়ে এগিয়ে রেখেছে বলে মনে করি।
চাকরির আবেদন : মাধ্যমিক শিক্ষক নিয়োগের বড় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর বন্ধুদের দেখাদেখি আবেদন করেছিলাম। কিন্তু পরীক্ষা দিইনি। বিসিএসে আবেদন থেকে শুরু করে নিয়োগ পর্যন্ত দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। এটা ভেবে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে আবেদন করি।
বলতে গেলে অল্প প্রস্তুতিতে পরীক্ষা দিয়েই চাকরি পেয়ে যাই। হঠাৎ বাবার মৃত্যুতে সব এলোমেলো হয়ে গেল। তাই পরিবারকে সহায়তা করতে প্রাথমিকের শিক্ষক পদে যোগ দিই। তত দিনে ৪১তম ও ৪৩তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষা হয়ে গেছে। ফল প্রকাশের অপেক্ষায় ছিলাম। ৪১তম বিসিএসে ক্যাডার পাইনি। তবে নন-ক্যাডারে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত হই। যোগ দিই ঢাকার গভর্নমেন্ট ল্যাবরেটরি স্কুলে। এর মধ্যে ৪৩তম বিসিএসের ফল প্রকাশ হয়। প্রশাসন ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হই। প্রশাসন ক্যাডারে যোগ দেওয়ার আগ পর্যন্ত গভর্নমেন্ট ল্যাবরেটরি স্কুলেই কর্মরত ছিলাম।

প্রস্তুতি কৌশল : প্রিলিমিনারির প্রস্তুতিটাই সবচেয়ে কঠিন ছিল। কী আসবে না আসবে কোনো ঠিক-ঠিকানা নেই, এত পড়ার মধ্যে নিজেকে অসহায় লাগত। রাতের পর রাত টেবিলে বসে নিজেকে অভ্যাস করিয়েছি। গণিত, বিজ্ঞান, বাংলা এবং ইংরেজি গ্রামার এসব বিষয়ের বেসিক ভালো থাকায় খুব বেশি সময় দিতে হয়নি। বাংলা ও ইংরেজি সাহিত্য প্রচুর পড়তাম, এমনিতেও বই পড়তে পছন্দ করতাম। তাই এই দুই বিষয় পড়তে সবচেয়ে ভালো লাগত। বাংলাদেশ বিষয়াবলি আর আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি বেশি বেশি রিডিং পড়তাম। মুখস্থ করার চেষ্টা একদমই করিনি। নৈতিকতা ও সুশাসন টোটালি বাদ দিয়েছিলাম। লিখিত প্রস্তুতির জন্য কিছু বিষয় নোট করে পড়েছি, মুখস্থ করার চেয়ে অ্যানালিটিকাল পড়ার ওপর বেশি জোর দিয়েছিলাম।
ভাইভা প্রস্তুতি : ভাইভার জন্য আলাদা প্রস্তুতি নিইনি। ভাইভা বোর্ডে প্রায় ২০ মিনিটের মতো ছিলাম। পছন্দ তালিকায় ছিল—পররাষ্ট্র > অ্যাডমিন > পুলিশ। পাবলিক স্পিকিং আমার কাছে সব সময়ই ভয়ের। আমাকে বাংলাদেশ নিয়ে দুই মিনিটের একটা প্রেজেন্টেশন দিতে বলেছিলেন বোর্ড চেয়ারম্যান।
পরামর্শ
যাঁরা প্রস্তুতির প্রাথমিক পর্যায়ে আছেন তাঁদের বেসিক ধারণা পরিষ্কার করতে হবে। যাঁর যেখানে দুর্বলতা, সেটা শনাক্ত করে প্রস্তুতি নিতে হবে। স্কুল-কলেজ পর্যায়ের কোনো বিষয়বস্তুতে দুর্বলতা থাকলে বিসিএসে ভালো করা কঠিন। তাই যেসব বিষয় বা অধ্যায়ে দুর্বল সেগুলোতে জোর দিন।



