রাইস মিলে ডাকাতির ঘটনায় চার জন গ্রেফতার, ৪৬২ বস্তা চাল উদ্ধার

ঢাকার ধামরাইয়ে অটোরাইস মিলে ডাকাতির ঘটনায় চার জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ সময় ডাকাতি হওয়া ৪৬২ বস্তা চাল উদ্ধার করা হয়। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে ধামরাই থানায় সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ক্রাইম অ্যান্ড অপস (ঢাকা জেলা উত্তর) মো. আরাফাতুল ইসলাম। 

এর আগে গত ২৬ জানুয়ারি ভোররাতে ধামরাই পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের আইঙ্গন মোড় এলাকার মেসার্স বিসমিল্লাহ অটোরাইস মিলে ডাকাতির ঘটনা ঘটে।

ওই সময় ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী জানিয়েছিলেন, মুখে মাস্ক পরিহিত ১০-১২ জন ডাকাত লোহার পাইপ ও দেশীয় অস্ত্রশন্ত্র নিয়ে মিলের পশ্চিম পাশের দেয়াল টপকে ভেতরে প্রবেশ করে। তারা নিরাপত্তাকর্মী মো. হযরত আলীসহ (৪৫) শ্রমিকদের হাত-পা বেঁধে মারধর করে। একপর্যায়ে ডাকাতরা মিলের মূল গেটের তালা খুলে একটি ট্রাক ভেতরে প্রবেশ করায় এবং ‘ফাতেমা জোড়া ইলিশ মার্কা’ ও ‘জোড়া আনারস মার্কার’ ৬৩৩ বস্তা চাল (প্রতি বস্তা ২৫ কেজি), মোট ওজন ১৫ হাজার ৮২৫ কেজি, যার আনুমানিক মূল্য আট লাখ ৫৪ হাজার ৫০০ টাকা লুট করে নিয়ে যায়। এছাড়া নিরাপত্তাকর্মীদের ব্যবহৃত পাঁচটি মোবাইল ও নগদ ৭০০ টাকা লুট করা হয়। সব মিলিয়ে লুণ্ঠিত মালামালের আনুমানিক মূল্য আট লাখ ৮৮ হাজার ৫৫০ টাকা।

ধামরাই থানায় ২৮ জানুয়ারি একটি মামলা করেন। মামলার তদন্তে নেমে ধামরাই থানার ওসি মো. নাজমুল হুদা খানের নেতৃত্বে অভিযান চালান মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ধামরাই থানার উপপরিদর্শক (এসআই) এস এম কাওসার সুলতান।

পুলিশ জানায়, ২৯ জানুয়ারি ভোররাতে অভিযান চালিয়ে ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার তেঘরিয়া ইউনিয়নের রাজেন্দ্রপুর এলাকায় নির্মাণাধীন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ক্যাম্পাসের পূর্ব পাশের গেটের সামনে মাটির রাস্তা থেকে ডাকাতিতে ব্যবহৃত ছয় চাকার ট্রাকটি জব্দ করা হয়।

পরবর্তীতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও গোপন তথ্যের ভিত্তিতে ৫ ফেব্রুয়ারি রাত আড়াইটার দিকে ঢাকা মহানগর পুলিশের দক্ষিণখান থানার আমবাগান এলাকা থেকে শাহজালাল (৩০) নামে একজনকে গ্রেফতার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই দিন ভোর ৪টা ২০ মিনিট ও ৪টা ৫০ মিনিটের মধ্যে গাজীপুর জেলার কোনাবাড়ী ও বাসন থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরও তিন জনকে গ্রেফতার করা হয়। তারা হলো- মো. ফারুক মিয়া (৪১), মো. ফরহাদ মিয়া (৪৫) এবং মো. আলমগীর মিয়া (৩০)। গ্রেফতার শাহজালালের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় দুটি, আলমগীরের বিরুদ্ধে তিনটি ও ফারুকের বিরুদ্ধে নয়টি মামলা আছে। 

তাদের স্বীকারোক্তি ও তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তীতে পটুয়াখালীর গলাচিপা থানার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে লুণ্ঠিত ৪৬২ বস্তা চাল উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে বুধবাড়ীয়া বাজারে ফরহাদ হোসেনের ‘চৌকিদার স্টোর’ থেকে ৩০ বস্তা, উত্তর চর বিশ্বাস এলাকায় পলাতক আসামি বজলুর রহমানের টিনের ঘর থেকে ২৭২ বস্তা এবং একই এলাকার পলাতক আসামি বশার দালালের ঘর থেকে ১৬০ বস্তা চাল উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত চালগুলো উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে তালিকা করে জব্দ করা হয়েছে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ক্রাইম অ্যান্ড অপস মো. আরাফাতুল ইসলাম বলেন, ‘এ ঘটনায় জড়িত অপর পলাতক আসামিদের গ্রেফতার ও লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত আছে। গ্রেফতারকৃতদের ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।’

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top