পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম জানিয়েছেন, গত ১৫ বছরে পুলিশ দলীয় প্রতিষ্ঠানের রূপ ধারণ করেছে এবং এতে নানাবিধ সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। আমরা অনেক অবিবেচনাপূর্ণ কাজ করেছি, জুলাই ও আগস্টে প্রচুর আন্দোলনকারী শহীদ হয়েছেন। লোভী ও দলীয় পুলিশের সদস্যদের কারণে আমাদের অনেক দায়ভার সৃষ্টি হয়েছে। এসব থেকে বের হয়ে পুলিশকে আবার সঠিক অবস্থানে ফিরিয়ে আনা, তাদের মনোবল বৃদ্ধি করা এবং কাজে পুনরায় যুক্ত করার জন্য গত এক বছর ধরে আমরা প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।
শনিবার দুপুরে রংপুর পুলিশ লাইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজের অডিটরিয়ামে রংপুর অঞ্চলে কর্মরত পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের কর্মকর্তা ও সদস্যদের সঙ্গে এক বিশেষ কল্যাণ সভার শেষে সাংবাদিকদের কাছে আইজিপি এসব মন্তব্য করেন।
আইজিপি বলেন, আইনগত কার্যক্রমে মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়। তারা মনে করে এই পুলিশটি ৫ আগস্টের আগে ছিল, তাই তারা কেন গ্রেফতার করবে কিংবা রাস্তায় ছাড়ার নির্দেশ দিতে পারে। আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে পুলিশের জন্য এটি একটি বড় বাধা।
আইজিপি বাহারুল আলম আরও বলেন, আইনশৃঙ্খলা সভায় আমি উপদেষ্টাদের বলেছি, শান্তিপূর্ণভাবে আইন প্রয়োগে আমাকে সমর্থন দিতে হবে। আমি নিরপেক্ষভাবে আইন প্রয়োগ করতে চাই। যদি এনসিপি কিংবা বড় দলগুলোর নেতারা আটক নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করেন তবে পুলিশ সদস্যরা তাদের কাজ সঠিকভাবে করতে পারবে না। যদি আমরা ভুল করি, নিশ্চয়ই আপনাদের আমাদের ধরবেন।
তিনি উল্লেখ করেন, নির্বাচনের সময় আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা আমাদের কর্তব্য। পুলিশের সঙ্গে ছয় লাখ আনসার থাকবে। এছাড়া নির্বাচনের আগে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী এবং বিমানবাহিনী আমাদের সঙ্গে সহযোগিতা করবে। বর্ডারগার্ড এবং কোস্ট গার্ড অপরাধ দমনে কাজ করছে।
তিনি আরও বলেন, অপরাধ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। প্রতি বছর গড়ে ৩ হাজার ৫০০ থেকে ৪ হাজার হত্যাকাণ্ড ঘটে। আমরা এ চেষ্টা করবো যেন একজনও নিহত না হয়। শরীফ ওসমান হাদি হত্যাকান্ড আমাদের দেশের সকলকে বিচলিত করেছে। এর সুষ্ঠু সমাধান ও বিচার করার দায়িত্ব আমাদের ওপর রয়েছে। আমরা খুলনা অঞ্চলে কিছু হত্যাকাণ্ডের ঘটনা তদন্ত করতে সক্ষম হয়েছি।
আইজিপি বাহারুল আলম বলেন, দেশের সব জনগণ শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করে আসছে। তবে সুযোগ সন্ধানীরা যদি সুবিধা নিতে চায়, আমরা যতটা সম্ভব তাদের আইনগতভাবে দMan শন করার চেষ্টা চালাবো। জুলাই ও আগস্ট পরবর্তী অনেক স্থানে সংখ্যালঘুদের উপর হামলা, মাজারে আক্রমণ এবং অগ্নিসংযোগ ঘটেছে। আমরা প্রতিটি ঘটনায় মামলা দায়ের করেছি এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র প্রস্তুত করেছি। কিন্তু আমাদের বিচার ব্যবস্থা এতটাই জটিল যে এতে বিচার হতে দীর্ঘ সময় লাগে। ২০১৫ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে রংপুর বিভাগে হত্যার মামলা তিন ভাগের এক ভাগের বেশি নিষ্পত্তি করা সম্ভব হয়নি। বিচারে দীর্ঘসূত্রিতা দেখা দেয় এবং মামলার জটিলতার কারণে হত্যার বিচার ১০ বছরেও সম্পন্ন হয়নি, ফলে ব্যক্তিরা উৎসাহিত হচ্ছে। এটি সিস্টেমের দুর্বলতার একটি উদাহরণ। এই বিষয়গুলো সংস্লিষ্ট আইন তৈরি করে সরকারের দেখার প্রয়োজন।
তিনি জানিয়েছেন, দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্বাচনের জন্য প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। শুক্রবার পর্যন্ত ১ লাখ ৩৩ হাজার পুলিশ সদস্যের মাঝে দেড় লাখ পুলিশকে নির্বাচনী প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। বাকি সদস্যদের প্রশিক্ষণ আগামী ২০ জানুয়ারির মধ্যে সম্পন্ন হবে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় সব ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি বসাবে। এর পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ ৮ হাজার ও মাঝারি ঝুঁকির ১৬ হাজার ভোট কেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যদের জন্য বডি ক্যামেরা প্রদান করা হবে।
এ সময় রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি আমিনুল ইসলাম, মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মজিদ আলী, জেলা পুলিশ সুপার মারুফাত হুসাইনসহ অন্যান্য পুলিশ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।




পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম বলেছেন, বিগত ১৫ বছরে পুলিশ দলীয় পুলিশ হিসেবে গড়ে উঠেছিল, নানা ধরনের বিচ্যুতি ছিল। আমরা অনেক গণবিরোধী কাজ করেছি, জুলাই-আগস্টে বিপুল পরিমাণ আন্দোলনকারী শহীদ হয়েছেন। লোভী, দলকানা পুলিশ সদস্যের কারণে আমাদের উপর অনেক দায়ভার এসেছে। এগুলো থেকে বেরিয়ে এসে পুলিশকে আবার স্বমহিমায় দাঁড় করানো, মনোবল বৃদ্ধি করা, তাদের কাজে ফিরিয়ে আনার জন্য গত এক বছর ধরে চেষ্টা করছি।