প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আহ্বানে বাংলাদেশকে নতুন মাত্রায় পৌঁছে দিতে ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনকে আরো গতিশীল করার আহ্বান জানিয়েছেন সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী।
মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে শিল্পকলা একাডেমি আয়োজিত “একুশের কবিতা” অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এ আহবান জানান।
রবিবার বিকালে একাডেমির জাতীয় চিত্রশালা মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় কবিতা পাঠের এ আসর। এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন একাডেমির মহাপরিচালক রেজাউদ্দিন স্টালিন।
সংস্কৃতি মন্ত্রী আরো বলেন, কবিতা শুধু আমাদের কাঁদায় না কবিতা মানুষকে জাগায়, কবিতা মানুষকে সংগ্রামমুখর করে, কবিতা অন্যায়ের বিরুদ্ধে একটা শক্তিশালী উচ্চারণ, একটা প্রতিবাদ।
তিনি আরো বলেন, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের কথা যদি আমরা মনে রাখি তখন সশস্ত্র হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে আমাদের অস্ত্র ছিলো গান, কবিতা। একাত্তরের স্বাধীনতাযুদ্ধ মূলত ছিলো একটা সাংস্কৃতিক বিপ্লব, ঠিক তেমনি চব্বিশের যে জুলাই আন্দোলন এটাও ছিলো তরুণ, তরুণী, তরুণ শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এবং অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের একটা ভাবনা। আমরা এই পরিবর্তনের স্বপ্ন নিয়ে বাংলাদেশকে আমরা একটি নতুন, আধুনিক যুগোপযোগী বিশ্বের সাথে একাত্মতা করতে চাই।
সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে আমরা একটি নতুন বার্তা নিয়ে এসেছি। আর সে বার্তা হলো বাংলাদেশকে একটা নতুন মাত্রায় পৌঁছে দেয়ার জন্য আমরা সকলে মিলে নতুন যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছি। এখানে সবকিছুর মধ্যে সাংস্কৃতিক অঙ্গণকে আরো গতিশীল এবং বেগবান করতে চাই।
১৯৫২ থেকে জুলাই অভ্যুত্থান পর্যন্ত যত শহিদ আছে ও যত আহত আছে তাদের সকলের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে একাডেমির মহাপরিচালক রেজাউদ্দিন স্টালিন বলেন, আজকে যে আমরা মুক্ত কণ্ঠে এই মঞ্চে দাঁড়িয়ে কথা বলতে পারছি, কবিতা উচ্চারণ করতে পারছি তার পেছনে এই অকেতুভয় মানুষদের অবদান অনস্বীকার্য। অনেকেই হয়তো মনে করেন কবিদের কী আর অবদান, তাঁরাতো বসে কবিতা লিখে, একটু উদাসীন। কিন্তু আমাদের এবং সারা বিশ্বের আন্দোলনের যে ইতিহাস, মত প্রকাশের ইতিহাস, স্বাধীনতার ইতিহাস সেখানে কবিদের যে অবদান সেটি আমরা জানি।
আলোচনা পরবর্তী কবিতার আসরে কবি কণ্ঠে কবিতা পাঠ করেন মতিন বৈরাগী, মোহন রায়হান, রেজাউদ্দিন স্টালিন, হাসান হাফিজ, কবি মাহবুব হাসান, সীমা ইসলাম, শাহাবুদ্দিন নাগরী, জাহাঙ্গীর ফিরোজ, সাখাওয়াত টিপু, রফিক হাসান, জাকির আবু জাফর, শাহীন চৌধুরী, এবি এম সোহেল রশিদ, আসাদ কাজল,জুনান নাশিত, ক্যামেলিয়া আহমেদ, আদিত্য নজরুল, জব্বার আল নাঈম, ইমরান মাহফুজ প্রমুখ।
আবৃত্তি করেন টিটো মুন্সী, ফারহানা তৃনা, প্রমা আজিজ, জাহান বশির, এনামুল হক জুয়েল, ফারজানা এলি, মাহিনুর মুমু প্রমুখ।



