তারেক রহমানের ছেড়ে দেওয়া আসনে প্রার্থী নিয়ে আলোচনা

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ছেড়ে দেওয়া বগুড়া-৬ আসনে উপনির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থী নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।

এ আসন দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রতীকী ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। সে কারণে এই মনোনয়নকে শুধু সিদ্ধান্ত হিসেবে নয়, বরং সরকারের রাজনৈতিক বার্তা হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
দলীয় সূত্র ও স্থানীয় রাজনীতিতে এখন কয়েকটি নাম ঘুরে বেড়াচ্ছে। আলোচনায় রয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) হেলালুজ্জামান তালুকদার লালু, সাবেক পৌর মেয়র অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান, জেলা বিএনপি সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা এবং জিয়া পরিবারের সদস্যদের নাম।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কেন্দ্রীয় নেতা বলেন, বগুড়া-৬ শুধু একটি আসন নয়, এটি দলের ঐতিহ্যের অংশ। এখানে এমন কাউকে দিতে হবে, যিনি সরকারের প্রতিনিধিত্ব করতে পারবেন।
জেলা বিএনপির এক নেতা বলেন, তৃণমূল চায় পরীক্ষিত কাউকে দেওয়া হোক। আন্দোলন সংগ্রামে যারা ছিলেন, তাদের মধ্য থেকে প্রার্থী আসা উচিত।
এ বিষয়ে জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা জানান, দলের নীতিগত সিদ্ধান্তের অংশ হিসেবে চেয়ারম্যান আসনটি ছেড়ে দিয়েছেন। এখানে ব্যক্তিগত অনুভূতির কোনো বিষয় নেই। দল যাঁকে মনোনয়ন দেবে, তিনিই প্রার্থী হবেন। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কেন্দ্র থেকে জানানো হবে।

এ আসনে নির্বাচন বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি জামায়াতে ইসলামী। বগুড়া শহর জামায়াতের আমির আবিদুর রহমান সোহেল বলেন, বিষয়টি কেন্দ্রীয়ভাবে পর্যালোচনায় রয়েছে। কেন্দ্র থেকে যে সিদ্ধান্ত আসবে, তার ভিত্তিতে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
অতীতে এই আসন থেকে নির্বাচন করেছেন খালেদা জিয়া। সেই ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে আবারও জিয়া পরিবারের কাউকে আনার আলোচনা চলছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জেলা বিএনপির এক জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, এই আসনের সঙ্গে জিয়া পরিবারের আবেগ জড়িয়ে আছে। তবে সরকার গঠনের পর বাস্তবতা বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সেক্ষেত্রে জোবাইদা রহমান, তাঁর মেয়ে জাইমা রহমান এবং প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী শর্মিলা রহমানের নামও আলোচনায় রয়েছে।

বগুড়া শহরের সাতমাথায় কথা হয় কয়েকজন ভোটারের সঙ্গে। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী আবুল খায়ের বলেন, এখন দল ক্ষমতায়। তাই এমন এমপি দরকার, যিনি কাজ এনে দিতে পারবেন। আমাদের বগুড়া দীর্ঘ দিন ধরে অবহেলিত। এখন অনেক কাজ করতে হবে।
কলেজছাত্র সাদমান শফিক বলেন, শুধু বড় নাম নয়, কাজের মানুষ দরকার। তরুণদের জন্য চাকরি, প্রশিক্ষণ এসব নিয়ে কাজ করবে এমন প্রার্থী চাই। বগুড়ায় যাতে শিক্ষিত কেউ বেকার না থাকে।
রিকশাচালক আবেদ আলী বলেন, ভোটের আগে সবাই আসে, পরে আর দেখা যায় না। এবার এমন কাউকে চাই, যিনি সব সময় এলাকায় থাকবেন। তারেক রহমানকে ভোট দিয়েছিলাম। তিনি আমাদের বগুড়ার মানুষ। এখন এমন একজন চাই, যিনি বগুড়াকে নিজের মনে করবেন।

গৃহবধূ কুলসুম বেগম বলেন, হাসপাতাল, স্কুল, নিরাপত্তা এসব নিয়ে কাজ করেন এমন এমপি চাই। শুধু রাজনীতি করলে হবে না।
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক আব্দুল মোমিন বলেন, সরকার গঠনের পর এটি হবে প্রথম উপনির্বাচন। এখানে কাকে দেওয়া হচ্ছে, সেটি দেখেই বোঝা যাবে বিএনপি কোন ধরনের নেতৃত্ব সামনে আনতে চায়। প্রধানমন্ত্রী এই আসন ছেড়েছেন। ফলে এখানে যিনি প্রার্থী হবেন, তিনি কার্যত সরকারের মুখ হিসেবে বিবেচিত হবেন।
১৯৯০-এর পর বগুড়া-৬ আসনে একাধিকবার উপনির্বাচনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে বিএনপির শীর্ষ নেতা একাধিক আসনে জয়ের পর এই আসন ছেড়ে দেওয়ায় নির্বাচন হয়েছে। ১৯৯১ থেকে ২০০৮ পর্যন্ত এ আসন থেকে খালেদা জিয়া জিতেছেন (১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০১, ২০০৮)। ২০১৪ সালে ভোট বর্জন করায় দলটি অংশ নেয়নি। ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে (১১তম সংসদ) বগুড়া-৬ আসন থেকে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর (বিএনপি) নির্বাচিত হন। এরপর তিনিও এই আসন থেকে শপথ গ্রহণ না করায় ২০১৯-এর উপনির্বাচনে বিএনপির গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ বিজয়ী হন। ২০২৪ সালের নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেয়নি। সর্বশেষ ২০২৬ সালের সাধারণ নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান (বিএনপি) বগুড়া-৬ ও ঢাকা-১৭ থেকে বিজয়ী হয়েছেন। ঢাকা-১৭ রেখে তিনি বগুড়া-৬ ছেড়ে দিয়েছেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top