ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কাঠামো পুনর্গঠন ও প্রশাসনিক সংস্কারের অংশ হিসেবে ডিএমপিকে ভেঙে ঢাকা উত্তর ও ঢাকা দক্ষিণ—এই দুই ভাগে বিভক্ত করার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। রাজধানীর ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা, যানজট, অপরাধপ্রবণতা এবং নাগরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের কার্যক্রম আরও কার্যকর ও গতিশীল করার লক্ষ্যে এই পরিকল্পনার কথা ভাবা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
ডিএমপি বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ মহানগর পুলিশ ইউনিটগুলোর একটি। প্রায় দুই কোটি মানুষের বসবাসরত এই মহানগরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ দমন, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং জনসেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করতে গিয়ে নানা ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে পুলিশ। একটি একক কমান্ড কাঠামোর আওতায় পুরো ঢাকাকে পরিচালনা করা দিন দিন কঠিন হয়ে পড়ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
এই প্রেক্ষাপটে ডিএমপিকে দুই ভাগে ভাগ করে আলাদা আলাদা পুলিশ প্রশাসন গঠন করা হলে সিদ্ধান্ত গ্রহণের গতি বাড়বে, মাঠপর্যায়ের তদারকি সহজ হবে এবং জনগণের কাছে পুলিশের সেবা আরও দ্রুত পৌঁছানো সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশেষ করে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ভৌগোলিক ও প্রশাসনিক বিভাজনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পুলিশ প্রশাসন পুনর্বিন্যাস করা হলে সমন্বয় বাড়বে বলে মনে করছেন নীতিনির্ধারকেরা।
ডিএমপির প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানান, বিষয়টি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ের চিন্তাভাবনার মধ্যে রয়েছে। তিনি বলেন, “ডিএমপিকে ভেঙে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ করার বিষয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা হচ্ছে। তবে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সব মহলের মতামত নেওয়া হবে এবং সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।”
পুলিশের একাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা মনে করছেন, রাজধানীতে অপরাধের ধরন ও মাত্রা অঞ্চলভেদে ভিন্ন। কোথাও চুরি-ছিনতাই বেশি, কোথাও মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা, আবার কোথাও বাণিজ্যিক অপরাধ ও সাইবার অপরাধের ঝুঁকি বেশি। আলাদা দুটি মহানগর পুলিশ ইউনিট হলে সংশ্লিষ্ট এলাকার বাস্তবতা অনুযায়ী কৌশল নির্ধারণ করা সহজ হবে এবং বিশেষায়িত ইউনিটগুলোর কার্যক্রম আরও ফলপ্রসূ হবে।
এদিকে নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, ডিএমপি বিভক্ত হলে নাগরিক সেবার মান বাড়তে পারে। থানাভিত্তিক তদারকি জোরদার হবে, পুলিশ সদস্যদের ওপর কাজের চাপ তুলনামূলকভাবে কমবে এবং জবাবদিহিতা বৃদ্ধি পাবে। তবে একই সঙ্গে জনবল বণ্টন, নতুন অবকাঠামো নির্মাণ, প্রশাসনিক ব্যয় এবং বাজেট ব্যবস্থাপনার বিষয়গুলোও অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।
তারা আরও মনে করেন, বিভাজনের ফলে যদি প্রশাসনিক জটিলতা বা সমন্বয়ের ঘাটতি তৈরি হয়, তাহলে কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া কঠিন হতে পারে। তাই পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নের আগে পর্যাপ্ত গবেষণা, পরীক্ষামূলক মূল্যায়ন এবং আইনগত কাঠামো প্রস্তুত করা জরুরি।
সব মিলিয়ে, ডিএমপি ভেঙে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণে আলাদা মহানগর পুলিশ গঠনের চিন্তাভাবনা রাজধানীর আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থাপনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এটি বাস্তবায়িত হলে ঢাকাবাসীর নিরাপত্তা ও পুলিশি সেবায় নতুন গতি আসতে পারে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।




তার আগে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে
খুব ভালো