শতাধিক গুম-খুনের মানবাধিকার লঙ্ঘন সংক্রান্ত মামলায় মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেবেন সাবেক সেনাপ্রধান ইকবাল করিম ভূঁইয়া।
বৃহস্পতিবার দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন বিচারক বোর্ডকে এ তথ্য জানান চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম।
সেই দিনে জিয়াউলের পক্ষ থেকে শুনানি পরিচালনা করেন স্নাতক আইনজীবী মুনসুরুল হক চৌধুরী এবং তার বোন আইনজীবী নাজনীন নাহার। তারা প্রসিকিউশনের তিনটি অভিযোগের বিরুদ্ধে আপত্তি জানিয়ে অব্যাহতির আবেদন করেন। একইসঙ্গে দাবি করেন যে, প্রসিকিউশন জিয়াউলের বিরুদ্ধে কোনো প্রমাণ দিতে পারেনি।
আসামিপক্ষের এই বক্তব্যের বিরুদ্ধে জবাব দেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। এ সময় তিনি মামলার তদন্ত কর্মকর্তার কাছে প্রাপ্ত সাক্ষীদের বক্তব্য তুলে ধরেন। ভবিষ্যতে মামলায় সাক্ষ্য দেবেন সাবেক সেনাপ্রধান ইকবাল করিম ভূঁইয়া। এর পাশাপাশি আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের আবেদনও করেন তিনি। পরে ১৪ জানুয়ারি আদেশের জন্য দিন ঠিক করা হয়।
গত ৪ জানুয়ারি জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানি শেষ করেছেন প্রসিকিউশন। এ সময় আওয়ামী লীগের সরকারের সময়কালে শতাধিক গুম-খুনের দায়ে তিনটি অভিযোগ পড়ে শোনান চিফ প্রসিকিউটর।
প্রথম অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০১১ সালের ১১ জুলাই রাতে গাজীপুর সদর থানার পুবাইলে সড়কের পার্শ্বে জিয়াউলের উপস্থিতিতে সজলসহ তিন জনের হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়।
দ্বিতীয় অভিযোগে উল্লিখিত অপরাধের সময়সীমা ২০১০ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। এ সময় বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার চরদুয়ানী ইউনিয়নে চরদুয়ানী খাল ও বোলেশ্বর নদীর মোহনায় নজরুল, মল্লিক এবং ৫০ জনের হত্যার দাবি রয়েছে।
তৃতীয় অভিযোগের মধ্যে ৫০ জন হত্যার অভিযোগ পুনরাবৃত্তি করা হয়েছে। এটি অনুযায়ী, দ্বিতীয় অভিযোগ দ্বারা উল্লেখিত সময়কালেও বরগুনার বোলেশ্বর নদী ও বাগেরহাটের শরণখোলায়, সুন্দরবনের বিভিন্ন অংশে তথাকথিত বনদস্যু দমন অভিযানের অজুহাতে মাসুদসহ ৫০ জনের প্রাণ হরণ করা হয়েছে।
এই সকল হত্যাকাণ্ডের কারণে মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলা মোকাবিলার উদ্দেশ্যে গত ২৩ ডিসেম্বর জিয়াউলকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-১। ১৭ ডিসেম্বর তার বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগ গ্রহণ করা হয়। একই দিনে সকালে অফিসিয়াল চার্জ দাখিল করে প্রসিকিউশন।




শতাধিক গুম-খুনের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেবেন সাবেক সেনাপ্রধান ইকবাল করিম ভূঁইয়া।
শতাধিক গুম-খুনের মানবাধিকার লঙ্ঘন সংক্রান্ত মামলায় মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেবেন সাবেক সেনাপ্রধান ইকবাল করিম ভূঁইয়া।