রাজধানীতে গ্যাস সংকট নিরসনসহ সার্বিক সংকট সমাধানের দাবিতে মানববন্ধন করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কদমতলী থানা শাখা। শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর জুরাইন এলাকায় এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য সৈয়দ জয়নুল আবেদীন। তিনি বলেন, সারা দেশে যে গ্যাস সংকট চলছে তা কোনোভাবেই স্বাভাবিক নয়, এটি একটি পরিকল্পিত ও কৃত্রিম সংকট। অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের কারণে মানুষ ন্যায্যমূল্যে এলপি গ্যাস পাচ্ছে না। সরকারের ভেতরে ও বাইরে থাকা আওয়ামী দোসরদের প্রভাবের কারণেই সরকার এসব অসাধু ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে পারছে না।
তিনি আরও বলেন, ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে জামায়াতে ইসলামী বারবার অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে সতর্ক করেছে এবং অনুরোধ জানিয়েছে সরকারের ভেতরে ও বাইরে থাকা আওয়ামী দোসরদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার জন্য। কিন্তু সরকার সে ক্ষেত্রে কার্যকর ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হয়েছে। এর ফলেই আজ কৃত্রিম গ্যাস সংকট, আইনশৃঙ্খলার অবনতি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির মতো সমস্যা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।
সৈয়দ জয়নুল আবেদীন অভিযোগ করে বলেন, ক্ষমতার মসনদে বসার লোভে একটি রাজনৈতিক দলের কিছু নেতা আওয়ামী দোসরদের রক্ষা করছে, যার সুযোগে দুর্নীতিবাজ, সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজরা দেশজুড়ে তাণ্ডব চালাচ্ছে। অতীতের দৃষ্টান্ত তুলে ধরে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ লগি-বৈঠা দিয়ে মানুষকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে, আরেকটি দল চাঁদার জন্য ব্যবসায়ীকে পাথর দিয়ে থেঁতলে হত্যা করেছে। এসব দুঃশাসনের বিরুদ্ধে নতুন বাংলাদেশ গড়তে তরুণ প্রজন্মকে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ ও দুর্নীতিগ্রস্ত নেতৃত্ব বর্জন করতে হবে।
গণভোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশে ফ্যাসিবাদের পথ চিরতরে বন্ধ করতে আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে হবে। ‘হ্যাঁ’ ভোট বিজয়ী হলে কোনো ব্যক্তি টানা ১০ বছরের বেশি প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন না। এতে করে দীর্ঘমেয়াদি ক্ষমতা থেকে স্বৈরশাসক ও ফ্যাসিবাদের জন্ম নেওয়ার সুযোগ থাকবে না। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকলেই একজন শাসক স্বৈরাচারে পরিণত হন—এটাই ইতিহাসের শিক্ষা।
তিনি আরও বলেন, চব্বিশের গণহত্যাসহ আওয়ামী লীগ শাসনামলের প্রতিটি হত্যাকাণ্ড, খুন ও গুমের বিচার নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে বিচার বিভাগে সরকারের হস্তক্ষেপ বন্ধ করে দেশে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটকে জয়যুক্ত করা জরুরি।
মানববন্ধনে জামায়াতে ইসলামী কদমতলী থানা শাখার নেতাকর্মীসহ স্থানীয় সাধারণ মানুষ অংশগ্রহণ করেন। তারা দ্রুত গ্যাস সংকট নিরসন, সিন্ডিকেট ভাঙা এবং জনদুর্ভোগ লাঘবে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করেন।




গ্যাস সংকট নিরসনের
সিন্ডিকেট নামক শব্দটা সমাজ থেকে মুশে ফেলতে পারলেই সব জিনিসের দাম নিয়ন্তনের মধ্যে চলে আসবে।
গ্যাস সংকট নিরসনের দাবিতে রাজধানীতে জামায়াতের মানববন্ধন
গ্যাস সংকট নিরসনের দাবিতে রাজধানীতে জামায়াতের মানববন্ধন অনুষ্টিত হলো।