এনকাউন্টার না পরিকল্পিত হত্যা? সিরাজ সিকদারের মৃত্যু বিতর্ক”

সিরাজ সিকদার (Siraj Sikder) ছিলেন বাংলাদেশের একজন বামপন্থী বিপ্লবী নেতা ও পূর্ব বাংলা সর্বহারা পার্টি–এর প্রতিষ্ঠাতা। তাঁর মৃত্যুকে ঘিরে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি বিতর্কিত ও আলোচিত অধ্যায় রয়েছে।

নিচে সংক্ষেপে কিন্তু ধারাবাহিকভাবে তাঁর হত্যার কাহিনি তুলে ধরা হলো—


সিরাজ সিকদার কে ছিলেন

  • জন্ম: ১৯৪৪ সাল (বরিশাল অঞ্চলে)
  • পেশা: প্রকৌশলী (বুয়েট থেকে পড়াশোনা)
  • আদর্শ: মাওবাদী কমিউনিজম
  • তিনি স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সরকারের কঠোর সমালোচক ছিলেন এবং সশস্ত্র বিপ্লবের মাধ্যমে সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পক্ষে অবস্থান নেন।

গ্রেপ্তার

  • ১ জানুয়ারি ১৯৭৫
    সিরাজ সিকদারকে চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
  • তাঁকে ঢাকায় এনে রিমান্ডে রাখা হয়।
  • অভিযোগ ছিল, তিনি রাষ্ট্রবিরোধী সশস্ত্র আন্দোলনে জড়িত ছিলেন।

সরকারি বক্তব্য অনুযায়ী মৃত্যু

  • ২ জানুয়ারি ১৯৭৫
    সরকারিভাবে জানানো হয়— “রিমান্ডে নেওয়ার পর তিনি পালানোর চেষ্টা করেন, এ সময় পুলিশের গুলিতে নিহত হন।”

এই বক্তব্য অনুযায়ী এটি ছিল একটি এনকাউন্টার বা পালাতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনা।


বিতর্ক ও অভিযোগ

কিন্তু এই সরকারি ব্যাখ্যা শুরু থেকেই প্রশ্নবিদ্ধ ছিল।

সমালোচকদের দাবি:

  • সিরাজ সিকদারকে হেফাজতে থাকা অবস্থায় পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়।
  • তাঁর শরীরে নির্যাতনের চিহ্ন ছিল বলে অভিযোগ ওঠে।
  • তাঁকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়েই হত্যা করা হয়।

বামপন্থী দল ও মানবাধিকার কর্মীদের মতে, এটি ছিল একটি রাষ্ট্রীয় হত্যাকাণ্ড (custodial killing)


রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট

  • সে সময় দেশ ছিল চরম রাজনৈতিক অস্থিরতায়।
  • সরকার বিরোধী বামপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান চলছিল।
  • সিরাজ সিকদারকে সরকার বড় হুমকি হিসেবে দেখত।

ঐতিহাসিক মূল্যায়ন

আজও—

  • তাঁর মৃত্যু বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ছিল কি না, তা নিয়ে বিতর্ক চলমান।
  • কোনো স্বাধীন বিচারিক তদন্ত হয়নি।
  • বাম রাজনীতির ইতিহাসে তিনি এক প্রতীকী শহীদ হিসেবে বিবেচিত।

1 thought on “এনকাউন্টার না পরিকল্পিত হত্যা? সিরাজ সিকদারের মৃত্যু বিতর্ক””

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top