মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ডুবিয়ে দেওয়ার হুমকি দিলেন খামেনি

ওমানের মধ্যস্থতায় সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পরোক্ষ পরমাণু আলোচনা পুনরায় শুরু হয়েছে। ঠিক সেই মুহূর্তে ওয়াশিংটনকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিলেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। 

আজ মঙ্গলবার তেহরানে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি হুঙ্কার দিয়ে বলেন, পারস্য উপসাগরে মোতায়েন করা মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলো মুহূর্তেই সাগরের তলদেশে পাঠিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে ইরান। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘বিশ্বের শক্তিশালী সেনাবাহিনী’ দাবির প্রেক্ষিতে খামেনি বলেন, বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী বাহিনীও এমন এক চড় খেতে পারে যা থেকে তারা আর কখনোই সেরে উঠবে না। ওয়াশিংটন যুদ্ধজাহাজ পাঠিয়ে ইরানকে ভয় দেখাতে চাইছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, যুদ্ধজাহাজ অবশ্যই একটি বিপজ্জনক যন্ত্র, তবে এর চেয়েও বিপজ্জনক হলো সেই অস্ত্র যা এই জাহাজকে ডুবিয়ে দিতে পারে।

সম্প্রতি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছিলেন, তেহরানের সাথে আলোচনায় কোনো সমঝোতা না হলে বিশ্বের বৃহত্তম বিমানবাহী রণতরী ‘ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড’ এই অঞ্চলে পাঠানো হবে। বর্তমানে পারস্য উপসাগরে ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’সহ একঝাঁক মার্কিন ডেস্ট্রয়ার অবস্থান করছে। চলমান উত্তেজনা নিরসনে জেনেভায় ওমানি দূতাবাসে ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আল-বুসাইদির উপস্থিতিতে আলাদাভাবে বৈঠক করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এবং মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ। দুই পক্ষ সরাসরি টেবিলে না বসলেও ওমানের মাধ্যমে নোট আদান-প্রদান করছে। 

গত বছর ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে ১২ দিনের যুদ্ধের পর স্থগিত হওয়া এই কূটনৈতিক প্রক্রিয়াটি চলতি মাসের শুরুতে মাস্কাটে পুনরায় সচল হয়। তবে আলোচনার টেবিলে কূটনীতি চললেও রণক্ষেত্রে যুদ্ধের মেঘ কাটেনি। এর আগে গত রবিবার ইরানের সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল আবদাল রহিম মুসাভি সতর্ক করে বলেছিলেন, ইরানের বিরুদ্ধে কোনো যুদ্ধ শুরু করলে তা ট্রাম্পের জন্য ভয়াবহ শিক্ষা হয়ে থাকবে।

সূত্র: মিডল ইস্ট মনিটর

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top