কুয়েতের প্রতি সমর্থন উপসাগরীয় দেশগুলোর

সম্প্রীতি জাতিসংঘে নতুন সামুদ্র সীমানার স্থানাঙ্ক এবং একটি হালনাগাদ মানচিত্র জমা দেওয়ার পর কুয়েতের সার্বভৌমত্বের প্রতি অকুণ্ঠ সমর্থন ব্যক্ত করেছে সৌদি আরবসহ উপসাগরীয় দেশগুলো।

বাগদাদের এই পদক্ষেপ কুয়েতের প্রতিষ্ঠিত সমুদ্রসীমার সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করেছে—এমন অভিযোগে ইরাকের শার্জ ডি অ্যাফেয়ার্সকে তলব করেছে দেশটি।

ইরাকের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা সমুদ্রসীমা পরিমাপের জন্য সর্বনিম্ন জলস্তর বা ‘লোয়েস্ট লো-ওয়াটার লাইন’ ব্যবহার করে এই মানচিত্র হালনাগাদ করেছে। তবে কুয়েতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বাগদাদের এই আবেদন কুয়েতের অবিচ্ছেদ্য সামুদ্রিক অঞ্চল, বিশেষ করে ‘ফাশত আল-কাইদ’ এবং ‘ফাশত আল-আইজ’ এর ওপর দাবি আরোপের চেষ্টা মাত্র।

মন্ত্রণালয় স্পষ্টভাবে জোর দিয়ে বলেছে, এই এলাকাগুলো কোনোভাবেই বিতর্কিত নয় এবং এগুলো সম্পূর্ণ কুয়েতের সার্বভৌমত্বের অধীনে। এই পরিস্থিতিতে সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) ওমান ইরাককে কুয়েতের সঙ্গে তাদের ঐতিহাসিক ও ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ক এবং প্রতিবেশীসুলভ আচরণের নীতিমালা ও আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে। কাতারও কুয়েতের সঙ্গে তাদের পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করে বলেছে, ইরাকের এই পদক্ষেপ কুয়েতের সার্বভৌমত্বকে ক্ষুণ্ণ করে এবং ১৯৮২ সালের জাতিসংঘ সমুদ্র আইন কনভেনশন অনুযায়ী চলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে।

এদিকে সৌদি আরব চরম উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছে, ইরাকের নতুন স্থানাঙ্কগুলো সৌদি-কুয়েতি ‘বিভক্ত অঞ্চলের’ কিছু অংশকেও অন্তর্ভুক্ত করেছে, যা বিদ্যমান চুক্তি অনুযায়ী রিয়াদ ও কুয়েত যৌথভাবে ব্যবহার করে। রিয়াদ জানিয়েছে, কুয়েত ও সৌদির মধ্যে চুক্তিকৃত এই অঞ্চলে অন্য কোনো পক্ষের অধিকার বা দাবি তারা কোনোভাবেই মেনে নেবে না। দেশটি বাগদাদকে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবনা এবং কুয়েতের সার্বভৌমত্বকে সম্মান জানিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে।

বাহরাইন এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতও পৃথক বিবৃতিতে কুয়েতের প্রতি সমর্থন এবং আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার কথা বলেছে।

উল্লেখ্য, ইরাক ও কুয়েতের মধ্যে ২১৬ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সীমান্ত বিরোধ দীর্ঘদিনের। ১৯৯০ সালে কুয়েতের ইরাকের আক্রমণের পর ১৯৯৩ সালে জাতিসংঘ এই স্থল সীমানা নির্ধারণ করে দেয়। তবে সামুদ্রিক সীমানা অমীমাংসিত থেকে যায়। ২০১২ সালে দুই দেশের মধ্যে একটি সামুদ্রিক সীমান্ত চুক্তি হয়েছিল এবং ২০১৩ সালে তা নিজ নিজ আইনসভায় অনুমোদিতও হয়। 

তবে ২০২৩ সালে ইরাকের ফেডারেল সুপ্রিম কোর্ট সংসদীয় অনুমোদনের একটি আইনি ত্রুটি দেখিয়ে সেই চুক্তিটিকে অবৈধ ঘোষণা করে। কুয়েত এবং উপসাগরীয় দেশগুলো এখন আন্তর্জাতিক আইন ও কনভেনশন অনুযায়ী দ্রুত এই সামুদ্রিক সীমানা নির্ধারণ সম্পন্ন করার ওপর জোর দিচ্ছে।

সূত্র: আরব নিউজ।

1 thought on “কুয়েতের প্রতি সমর্থন উপসাগরীয় দেশগুলোর”

Leave a Reply to Motaleb Sarker Cancel Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top